ঠিক ভার্সেস ঠিক না’র মাঝে যা আছে

ঠিক ভার্সেস ঠিক না’র মাঝেও যে কিছু “বিবেচনাধীন” বা “স্বাধীন বিচার”ম নামে শব্দদ্বয় রয়েছে, তা আমরা অনেকেই বুঝি না বা বোঝার ক্ষমতা রাখি না। সবকিছুর মেরুকরণ করে ফেলি। ঝামেলা এখানেই, আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের এই সমস্যা ছিল না একসময়। অথচ, এই মানসিক সমস্যা দ্বারা আমরা ক্রমশই আক্রান্ত হচ্ছি। সামাজিকতা ও ধর্মীয় মনোভাব এ মেরুকরণ, অসহিষ্ণু মনোভাব ইত্যাদি বিজাতীয় সংস্কৃতিরই অংশ। এজন্যই আমরা আমাদের দৈনন্দিন ও পারিবারীক জীবনে অনেক বিপররীতমুখী আচরণ করি।
আমাদের সমাজে বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরই বয়ঃসন্ধিকালটা কাটে এতিমের মতো, কনফিউজড একটা মনোজগতে; সবকিছু নিয়ে লুকোছাপা একটা অবস্থায়। থিওরি আর প্রাকটিকালের মধ্যে মিল খুঁজে পায় না। এখানে কিশোর-কিশোরীদের বন্ধুত্ব এখনও বাবা-মায়ের চোখে অপরাধ; কিন্তু তারাই আবার একটা কিশোরীকে বিয়ে দিয়ে মধ্যবয়স্ক লোকের বিছানায় পাঠিয়ে দেয় খুব সহজেই। নিজের বউকে প্রকাশ্যে পিটালে তা পারিবারিক ব্যাপার আর আদর করলে তা অপরাধ। সিনেমায় চুমুর দৃশ্য থাকলে সেন্সর বোর্ড আটকে দেয়; কিন্ত দুই চারটা রেপ সিন কোনো ব্যাপার না। একটা মেয়ের পিরিয়ড নিয়ে কথা বলা অশ্লীলতা, কিন্ত এক ঘরে দুই বউ নিয়ে থাকা জায়েজ। এমন বিচিত্র সব সামাজিক ও ধর্মীয় টাবুতে জর্জরিত আমরা। একদিকে কড়া শাসন অন্যদিকে চোখের সামনে বিকৃত সব প্রাকটিস। হাতের নাগালে অশ্লীল সব উপাদান যা তৈরি করছে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ এক একটি মানুষ। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের সাথে খোলামেলা কথা বলতে একেবারেই অভ্যস্ত নন। কাউন্সেলিং-এর চেয়ে বকাবকি মারধরেই তারা বেশি সাচ্ছন্দ বোধ করেন।

আমাদের সমাজে অনেকগুলো বৈপরীত্য রয়েছে, যা নিয়ে আমরা বছরের পর বছর কাটিয়ে দিয়েছি। আমরা প্রকাশ্যে একটি মেয়ের গায়ে হাত তুলতে পারি। তাতে কোনোও সমস্যা হয় না। কিন্তু প্রকাশ্যে একটি মেয়ের হাত ধরে হাঁটতে অনেকের চোখে বাঁধবে। একটি ছেলে আর একটি মেয়েকে রিকশায় কিংবা কোনোও রেস্টুরেন্টে, নয়তো কফি শপে এক সাথে দেখলে আমাদের কল্পনার জগৎ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। আমরা সহজাত বিষয়গুলোতে সহজে নিতে পারি না।

প্রকাশ্যে চুম্বন নামে যে ইভেন্ট টি খোলা হয়েছে ফেসবুকে তা আসলে আমাদের দৈনন্দিন পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের এই স্ববিরোধী আচরণের সামগ্রিক প্রতিবাদ। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি এটি পছন্দ করি না, কারণ এটি বাঙ্গালি সংস্কৃতির অংশ নয়, তবে যদি এটি হয়ে থাকে আমাদের সামগ্রিক স্ববিরোধী আপাত-ধর্মান্ধ মনোভাবের প্রতিবাদ, তাহলে আমি তাকে সমর্থন করি।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL