শিশুদের প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করতে দিলে কী কী ক্ষতি হবেই?

অ্যাপলের ডিভাইসসমূহের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় আইপ্যাড এবং আইফোন। আর এই ডিভাইসের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন স্টিভ জবস। তবে মজার ব্যাপার হল, তাঁর নিজের সন্তানদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল আইপ্যাড ব্যবহার। এর কারণ হিসেবে তিনি প্রযুক্তির খারাপ দিকগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। তার মতে , ” আমার সন্তানেরা আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে ফ্যাসিস্ট বলে থাকে এবং বলে যে, আমরা প্রযুক্তি নিয়ে একটু বেশিই উদ্বিগ্ন। তারা এও বলে যে, তাদের কোন বন্ধুকেই এ ধরণের নিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হয় না। আর এর কারণ হল, প্রযুক্তির বিপদজনক দিকগুলো আমরা সরাসরি অবলোকন করেছি। আমি নিজের মধ্যেও এটি দেখেছি। আমি চাইনা আমার সন্তানের ক্ষেত্রেও সেটি ঘটুক।

আইফোন কিংবা অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্যের প্রতি আমাদের নেশার মত ঝুঁকে পড়াটা যদি কোন ইঙ্গিত বহন করে থাকে, তাহলে এটি বলা যায় যে, আমরা আমাদের সন্তানদের অসম্পূর্ণ এবং বিকলাঙ্গ হিসেবে গড়ে তুলছি যাদের মধ্যে থাকবেনা কোন চিন্তাশক্তি কিংবা সৃজনশীলতা। আমরাই সম্ভবত সর্বশেষ প্রজন্ম যারা বাড়ির পাশের মাঠে গিয়ে খেলতে পেরেছি। কারণ আমাদের ছিল না কোন স্মার্টফোন কিংবা ল্যাপটপ। আমরা শিক্ষালাভ করেছি মানুষের জীবনযাপন এবং চলাফেরা থেকে, একেবারে হাতে কলমে। আমরা প্রযুক্তিকে আত্তীকরণ করেছি বই পড়ে এবং সামাজিকীকরণের মাধ্যমে, সমাজের অন্যান্য মানুষের সাথে মিলেমিশে, কোন গুগল সার্চ ছাড়াই।”

আসলেই তাই। প্রযুক্তি এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এখন আমাদের আফিমের মত নেশায় বুদ করে রাখে। কিন্তু এ নেশা কাটিয়ে উঠতে হবে মানুষকেই। মানুষকেই ভেবে এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বের করতে হবে তার সৃজনশীলতা এবং আনন্দের উতস যা তাকে সুন্দর ও সফলভাবে বাইয়ে রাখবেও প্রকৃতির সাথে আরো কিছু দিন। মূলত অতিমাত্রায় প্রযুক্তি ব্যাবহারের ফলে কী হয়, আসুন দেখি-

১। বন্ধু বান্ধব এবং কাছের মানুষ বা পরিবারকে সময় দেয়া যায় না
২। দেখবেন শিশুদের সাথে কথা বললে আজকাল যত্ন সহকারে ঠিকভাবে উত্তর ও দেয় না, এর কারণ তার ভিডিও গেমস বা প্রযুক্তি পন্য (আই প্যাড, ফোন) ব্যাবহার
৩। পড়াশোনায় অমনোযোগ
৪। অসামাজিক আচারণ, মেলামেশায় অনিহা, জনবিচ্ছিন্ন বা বন্ধুহীন হয়ে পরা যা তার সামাজিকীকরণে চরমভাবে ব্যাঘাত ঘটাবে
৫। বিনয় এবং অন্যান্য মূল্যবোধ না শেখা বা বেয়াদবী করা
৬। খেলাধূলা না করা
৭। ত্রূটিপূর্ন ব্যক্তিত্ব তৈরি হওয়া যেমন সিদ্ধান নিতে না পারা সহজে, নেতৃত্ব তৈরি না হওয়া, একা কোন কাজ করতে না পারা বা সাবলম্বী হতে না পারা ইত্যাদি।

অতএব, অতিমাত্রায় প্রযুক্তি পন্য (টেলিভিশন, আই প্যাড, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মুঠোফোন, কম্পিউটার) এর ব্যাবহার থেকে আপনার সন্তানকে একটি নির্দিস্ট বয়স পর্যন্ত দূরে রাখুন। এক বা দুই ঘন্টার বেশি তাকে এসব ব্যাবহার করতে দেবেন না। তাকে খেলার সুযোগ দিন,অন্যের সাথে মিশতে উতসাহিত করুন, একসাথে কোন কাজ বা পড়াশুনাও করতে পারেন,বই পড়া বা গান শোনার অভ্যাস তৈরি করুন। তার মধ্যে যদি কোন প্রতীভা দেখেন, তা বিকশিত হতে দিন। কোয়ালিটি টাইম দিন। কিন্তু প্রযুক্তিপন্য ব্যাবহারের বিষয়ে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট হয়ে যান তার সাথে, তাই বলে আবার বাজে আচারণ বা মারধর নয়, বুঝিয়ে বলবেন এর উপকারীতা অপকারীতা।

প্রথম প্রকাশকালঃ নভেম্বর ৬,২০১৪

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL