আপনি কোন বাংলাদেশ চান – চার

বিশ্বের এক নম্বর ফাস্ট বোলার মহিলা ক্রিকেটে এখন সালমা খাতুন। উদ্যোক্তা হিসেবে নারীরা করছে দেশ ও দশের মুখ উজ্জ্বল। নারীরা এখন সবক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এহেন অবস্থায় ও দেশের কোন এক কোনে বা স্থানে খুব নীরবে কিছু বৈষম্য এবং পশ্চাতপদতা তৈরি হচ্ছে। খুব ছোট্ট একটি উদাহরণ দেই।

আজ এ ঘটনাটা শুনে খুব বিক্ষিপ্ত এবং হতাশ হলাম ভবিষ্যৎ চিত্রটা ভেবে। আমারই এক ছোট বোন পড়ে ফরিদপুরের এক বর্ধিষ্ণু থানা স্কুলে। স্কুলটির অনেক সুনাম ফলাফল এবং শিক্ষার্থীর আধিক্যের কারণো। স্কুলে নতুন কিছু শিক্ষক নিযুক্ত হয়েছেন কয়েক বছর আগে। নতুন-পুরানো মিলিয়েই স্কুলটি খুব ভালভাবে চলছিল। স্কুলটি ছিল ছেলে মেয়ে সহশিক্ষা কার্যক্রমের। কিন্তু শিক্ষকরা ছেলেদের আর মেয়েদের আলাদা করে বসাতে শুরু করল। তারপর স্কুলটির ভিতরে এবং বাইরে একসময় দেয়াল তুলে দেয়া হল। তারপর বলা হল মেয়েদের সবাইকে বোরখা পরে আসতে হবে। এবং নির্দেশনাটি অভিবাবকদের ডেকে ডেকে কার্যকর ও করা হচ্ছে। একসময় ঘোষণা দেয়া হল এবং বাস্তবায়িত হল মেয়েরা বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না। মেয়েদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতাই দেয়া হল বন্ধ করে। সমস্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং উৎসব দেয়া হল বন্ধ করে। হারমনিয়াম এর উপর ধূলা জমতে শুরু করল পরতের পর পরত। যে পরিবারটি একটু প্রগতিশীল বা যে পরিবারের শিশুটি বোরখা পরে না, তাকে সর্বস্থানে যা তা বলে অপমানিত করছে ঐ স্কুলের এক শিক্ষক। আর ঐ অপমানিত এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়া শিশুটিই হচ্ছে আমার সেই ছোট বোনটি। তাকে যাচ্ছেতাইভাবে অপমান করা হচ্ছে। তার সাথে শিক্ষক বহির্ভূত আচরণ করা হচ্ছে। একজন শিক্ষক স্বাভাবিকভাবেই শিশুদের সাথে কীভাবে কথা বলবে, তাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রন করবে ভাল জানবে বা বুঝবে বলেই ধরে নিই আমরা। অথচ একটা সামান্য কথাও ভালবাসা দিয়ে শোনানোর ক্ষমতা নেই ঐ শিক্ষকের। তাছাড়া ধর্মীয় বিষয়ে সকলের উপর জোর জবরদস্তি করেও অন্যায় করা হচ্ছে।

ঢাকার বাইরের কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান এখন এই পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে। শিক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গীর মান, শিক্ষার মান এখন এই পর্যায়ে। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সালমা তুমি কোথায়?

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL