ছাগু,শুকর এবং বাংলা একাডেমি সমাচার

এই বঙ্গদেশে ‘বাংলা একাডেমী’ নামক একটি স্থান আছে। অত্র স্থানে প্রচুর ছাগু বৎস চরিয়া বেড়ায় মনের সুখে। যে বিষয়টি আমাকে অতিশয় পুলকিত করিল তাহা হইল তাহাদের রূপ এবং আচারণ অবিকল মানবের ন্যায় হইলেও তাহাদের মনন ছাগু বৎসের ন্যায়। আমার মন প্রথমে সন্দেহ প্রকাশ করিলেও তাহাদের কর্ম ও বচন গুণে সহজেই বুঝিয়া লইয়াছি, তাহা্রা মানব সন্তান নহে। আরো আশ্চর্যের বিষয়, এই অতি সুন্দর স্থাপত্যশৈলিমণ্ডিত স্থানটিতে কিছু শুকর বৎসের ও সংকুলান হইয়াছে। কী রূপে ইহা প্রমাণিত হইল বলিতেছি।

আজই জানিতে পারিলাম তাহারা ‘শ্রাবণ’ নামে একটি প্রকাশনী আগামী দুই বৎসরের জন্য বইমেলায় বন্ধ ঘোষণা করিয়াছে। কিছুকাল পূর্ব হইতেই প্রতিষ্ঠানটি অস্থির আচরণ করিতেছে। তাহারা লেখকের লাশ নিষিদ্ধ করিতেছে, বই নিষিদ্ধ করিতেছে, লেখক নিষিদ্ধ করিতেছে, আজ শুনিলাম প্রকাশক নিষিদ্ধ করিয়াছে। অচিরেই হয়তো শুনিতে পাইবো এই স্থানটি ‘নিষিদ্ধ পল্লী’ অ্যাখ্যা পাইয়াছে। যাহা হউক, কৌতুহল সংবরণ না করিতে পারিয়া সাংবাদিকের রূপ ধরিয়া হাজির হইলাম ছাগুদ্বারে।

সুযোগ পাইয়া সরাসরি কারণ জিজ্ঞাসা করিলে ঊর্ধতন মর্যাদায় আসীন এক লোক থুড়ি ছাগু বৎসের নেত্রদ্বয়ের ঊর্ধে অবস্থিত ভুরুখানি লাফাইয়া উঠিল, বুঝিলাম পারিলে সে বলিয়াই বসে, “তাহাতে তোমার বাপের কি!”

আমি প্রহর গুণিতে শুরু করিলাম, তিনি বলিলেন, “ও (শালা) মিথ্যাচার করেছে। গত বছর আমরা রোদেলা প্রকাশনীকে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। তারা ধর্মীয় বিষয়ে অশ্লীল বই প্রকাশের কারণে অভিযুক্ত হয় এবং হেফাজত বইমেলায় আক্রমণের হুমকি দেয়। ওই প্রকাশনা থাকলে বইমেলা পুড়িয়ে দেওয়া হতো। এরপর সে (রবিন আহসান) ওই প্রকাশনীর পক্ষে টিএসসিতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছে… ব্লা ব্লা ব্লা”

আমি জানিতে চাহিলাম, শুধু কি এইজন্য জনাব রবিনের বইমেলার সবুজ কার্ড কাড়িয়া লওয়া হইয়াছে? সে তৎক্ষণাৎ উত্তর দিয়া পারিলে বলে, “হ, করেছি, বেশ করেছি, পারলে তোমাদেরও ব্যান করব শালার ছাম্বাদিক!” তবে ভদ্রতায় পশ্চাৎদেশবৎ মুখখানা দিয়া কেবল সম্মতিসূচক শব্দটি বাহির হওয়া মাত্র আমিও ছাগু হইতে দূরে ছুটিলাম, কারণ গন্ধ ছুটিয়াছে, বুঝিলাম, ছাগু অতিশয় পচনশীল প্রাণী।

আর কী শুনিব, ছাগু বৎস যে ‘ছাগু গ্রুপ’ এর ‘কোড অ্যান্ড কমান্ড’ মানিয়া চলিবে ইহাইতো স্বাভাবিক বিষয়। আর ছাগু বৎসের চামড়া অতিশয় তৈলচিক্কণ ও মোলায়েম বিধায় তাহারা যে আগুন ভয় পাইবে ইহাতেই বা আশ্চর্য হইবার কী আছে নতুন করিয়া বোধগম্য হইতেছেনা।

শুনিলাম আগামীকল্য কিছু মানবসন্তান উক্ত স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ করিবে, কিন্তু আমার মনে হইতেছে ইহা ফলপ্রদ হইবে না, কারণ আমি বিশ্বস্ত সূত্রে জানিয়াছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কর্তৃক কিছু শূকর এই নির্দেশনা ও প্রভাব ছাগুদের উপর ফলাইতেছে। যাহার ফলশ্রুতিতে এইরকম কিছু ধবংসাত্মক কাজ তাহারা করিয়া লইতেছে। অতএব, এই শূকরগুলিকে পূর্বে চিহ্নিত করিতে হইবে। তাছাড়া, শুকরেরা শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়েই নহে, সারা দেশেই ছড়াইয়া পড়িয়াছে। শ্রীমতি শেখ হাসিনার জায়নামাজের আশেপাশেও তাহাদের অবস্থান দেখিলে অবাক হইবার কিছু থাকিবে না।

অতএব, মনে হইতেছে মানবদের আবার ছাগু হটাও আন্দোলন শুরু করিতে হইবে। তাহাতে ভালই হইবে, নিরুৎসাহিত হইয়া শুকরেরাও সংখ্যায় কমিবে, ছাগুর মাংস ভক্ষণ করিয়া গরীবেরাও কিছু পুষ্টি পাইবে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL