রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক বোধ যখন আপনাদের মুসলমানিত্বের ফাঁদে

রোহিঙ্গা হিন্দু না মুসলিম সেটা আমার কাছে বিষয় না। কারণ প্রাণীটি হিন্দু না মুসলিম সেটা ভাবার আগে তাকে মানুষ হিসেবেই ভাবতে পারার শিক্ষাটা আগে আত্মস্থ করেছি। আমার মত গোবেচারা মানুষের কাছে বিষয় না হলেও বেশিরভাগ মানুষের কাছে মুসলিম পরিচয় একটি বিষয়। এটা ফ্যাক্ট এবং বাস্তব। কারণ ধর্মীয় পরিচয় মুসলিম বাঙ্গালীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন দিক। তাই স্বগোত্রীয়দের জন্য তার হৃদয় কাঁদবেই, এটা স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক যেটা সেটা হল, এখন রোহিঙ্গাদের জন্য যাদের ধর্মীয় কারনে প্রাণ কাঁদছে, কিছুদিন আগে নাসিকনগরে হিন্দু ঘরবাড়ি পোড়ার পর, সারাদেশে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মন্দির-বাড়িঘর লুটপাট ও পোড়ানোর পর এবং সর্বশেষ সাঁওতাল বিতাড়ণের পর তারা নীরব ছিলেন এবং এটাই সত্য কারো কারো ধর্ষকামী সত্তাও জেগে উঠেছিল। তার মানে কি ভিনদেশী মুসলিমের জন্য প্রাণ কাঁদতে পারে অথচ স্বদেশী হিন্দুদের জন্য প্রান কাঁদে না। এতে প্রমাণ হয় প্রানটা আসলে প্রতিবন্ধী হয়ে গিয়েছে। পরোক্ষভাবে বিতাড়িত ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার হিন্দুদের এবং প্রত্যক্ষভাবে বিতাড়িত সাঁওতালদের জায়গায় মুসলিম রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরিত করলেও অনেকে শান্তি পাবেন মনে হয়। তবে হয়তো এ্যত শান্তি তাদের কায়েম হবে না। দুই দেশের সরকারের পলিসি ভিন্ন কথাই বলছে।

তাহলে উপায় কি? বাংলাদেশের সরকারের সাথে ভারতের সবরকম-অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সাংস্কৃতিক শক্তিশালী সম্পর্ক বিদ্যমান। কিন্তু একই সাথে সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমারের সাথে আমাদের সম্পর্ক কেন শক্ত নয়? মিয়ানমারের সাথে বাংলাদশকে অবশ্যই পারস্পারিক আলোচনায় যেতে হবে রোহিঙ্গাদের প্রতি এই অত্যাচার থামানোর জন্য। পৃথিবীর কোন সভ্য দেশ শুধু ভিন্ন ধর্মের বলে কাউকে অত্যাচার করবে, এটা মেনে নেয়া সম্ভব নয়। নয়তো এই পুশব্যাক এবং এই নিরন্তর কান্না থামবেনা। এই মুহূর্তে পররাষ্ট্র বিষয়ক শক্তিশালী পদক্ষেপই পারে লাখ লাখ মানুষের এই কান্না থামাতে।

বাংলাদেশ আয়তনে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি এবং রোহিঙ্গা জনগণ ছাড়াই জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় দেশগুলোর একটি। অতএব রোহিঙ্গাদের এই বহর কোন শর্ত ছাড়া অনুপ্রবেশ করতে দেয়া বাংলাদেশের জন্য ভয়ানক বাজে একটি সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু মানবতা প্রদর্শনে এবং লালনে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহিষ্ণু হতে হবে। মিয়ানমার ও জাতিসংঘকে বাধ্য করতে হবে বাংলাদেশের সমস্যা বুঝতে। সেই সাথে বহু ধর্ম ও বর্ণ নীতি মানতে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে হবে। একটা দেশে শুধু এক ধর্মের লোক থাকতে পারবে, মুসলিম হোক আর ক্রিশ্চান হোক, অন্য ধর্মের লোক থাকতে পারবেনা, এটা একমাত্র অসভ্য দেশগুলোই ভাবতে পারে। মিয়ানমার নিশ্চয়ই সেটা হবার আগে দুইবার ভাববে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL