রবীন্দ্রনাথ – বাঙালির জাতীয়তাবাদ ও চেতনার আরেক নাম

এমন ব্যক্তি দুর্লভ, যে একটি জাতির ভাগ্য নির্ধারণে প্রথম পদচিহ্নটি রাখে, ধীরে ধীরে একটি জাতির মূল চেতনার উৎস হয়ে দাঁড়ায়। ৫২ এর আগে এবং পরে যখন তার প্রতি বাঙালির ভালবাসাকে উৎপাটনের চেষ্টা করল পাকিস্তানি ভূতেরা, তখন থেকেই শুরু হল আমাদের সাংস্কৃতিক স্বাজাত্যবোধের লড়াই, যেদিন থেকে বাংগালির সংস্কৃতি আর শিল্পের উপর আক্রমণ হল সেদিন থেকেই অবচেতনে শুরু হয়ে গিয়েছিল আমাদের শিকড় রক্ষা এবং বিকাশের যুদ্ধ, পাকি হটাও আন্দোলন। ৭১ আসতে আসতে সে আন্দোলন দাঁড়িয়ে গেল স্বাধীনতা যুদ্ধে। তিনি মানেই তখন একটি জাতির শিল্প-সংস্কৃতি এবং মেধা-মেরুদণ্ড। সেই তিনি মানেই মানবতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, আজও। আজও তিনিই আমাদের জাতীর স্বকীয় গন্তব্য। এত বড় বড় মানের ভীড়ে তিনি ছোট ছোটগুলো ও হাতের মুঠোয় নিয়ে বসে আছেন। তবু ভাগ্যিস তিনি ছিলেন। তিনি ছিলেন বলেই বাঙালি প্রেমে পড়ে কবিতা লেখে অবিরাম, বাঙালি বৃষ্টি ভালবাসে, বাঙালি বৈশাখে বিস্ফোরিত হয় আনন্দ আর ভালবাসায়, ঐক্যবদ্ধ হয় সহিষ্ণুতা আর সম্প্রীতিতে। তিনি ছিলেন, এখনো আছেন এবং থাকবেন বলেই হাজার বছর পরেও গাইবো “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি”…রবীন্দ্রনাথ, তোমাকে ব্যাখ্যা করবার ক্ষমতা আমাদের নেই…আপাতত আমি এখানেই ক্ষান্ত দেই। শুভ জন্মদিন হে অচিন্ত্যনীয়!

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL