প্রকাশকরা যেভাবে লেখকদের শোষণ করছে

বাংলাদেশে প্রকাশনা ব্যবসায়ের ধরণ বদলে গেছে। আগে লেখকদের কাছ থেকে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করে সেটা প্রকাশ করে বিক্রি করা হতো, রয়্যালটি দেয়া হতো, অনিয়মিতভাবে হলেও। তখনকার লেখকরা রয়্যালটি পাক কিংবা না পাক, বিক্রি নিয়ে চিন্তা করতে হতো না। সেটা নিতান্তই প্রকাশকের কাজ ছিল। ফলে কারও বই বেশি বিক্রি হল নাকি কম বিক্রি হলো সেটা নিয়ে লেখকের কোন মাথা ব্যথা থাকত না, না থাকাই স্বাভাবিক।

বই বিক্রি কম বা বেশি যাই হোক, তখনও প্রকাশক লাভবান হতো, এখনও সে চিত্র বদলায়নি। কিন্তু লেখকের চিত্র বদলে গেছে। আগে বই লিখে খ্যাতি এবং টাকা উভয়ই পাওয়া যেত। টাকার অংকটা যতই কম হোক, সেখানে লেখকের হক থাকত। কিন্তু এখন প্রকাশকের ভূমিকা শোষকের পর্যায়ে চলে গেছে প্রকাশ্যে। এখন লেখকের টাকায় বই ছাপিয়ে লেখককেই সেই বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে, এবং বই বিক্রি করতেও বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে লেখকের টাকায় বই প্রকাশ করে, প্রকাশক পূর্বের তুলনায় আরও বেশি লাভবান হচ্ছে। কিন্তু লেখককে অনেক বেশি দায়িত্ব ও ভোগান্তি নিতে হচ্ছে এবং সেই সাথে আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হচ্ছে।

বই প্রকাশনায় এখন যা হয়

এখন লেখক নিজের টাকায় বই প্রকাশ করেন। প্রুফ রিডিং, প্রচ্ছদ, বাঁধাই ইত্যাদির কাজ প্রকাশক করে। মূলত এজন্যই তারা খরচ নেয় লেখকের কাছ থেকে। লেখকের সুবিধা হলো এতে তার বইয়ে প্রকাশক হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির যেহেতু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স, সদস্যপদ, এবং হয়তো বা বইমেলায় স্টল নেয়ার যোগ্যতা আছে, তাই প্রকাশনার বশ কিছু বিষয় নিয়ে তাকে ভাবতে হয়না। লেখক নিজে নিজে বই প্রকাশ করলে এই সুবিধাটা পাওয়া যায় না।

ধরা যাক, একজন লেখকের একটি বইয়ের ৫০০ কপি প্রকাশ করা হলো। প্রতি ১০০ কপির জন্য ১২০০০ টাকা হলে ৫০০ কপির জন্য ৬০০০০ টাকা খরচ করতে হবে একজন লেখককে। এতে ৫০০ বইয়ের উৎপাদন মূল্য লেখকের কাছ থেকে নিয়ে নেবে প্রকাশক। এর মধ্য থেকে লেখককে ন্যূনতম ৩০০ কপি নিয়ে নিতে হবে বিক্রির জন্য, আর ২০০ কপি হয়তো প্রকাশক নিজে বিক্রির জন্য রেখে দেবে। যত কপিই বিক্রি হোক, এখানে কোন রয়্যালটির ব্যাপার থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। প্রকাশক যত কপি বিক্রি করবেন, তা পুরোটাই সাধারণত প্রকাশকের থাকবে। প্রকাশক যদি ভালো হয় সেক্ষেত্রে রয়্যালটি বা শেয়ার লেখক পেতে পারেন। তবে তাও অনিশ্চিত। কারণ আমাদের দেশের প্রকাশকরা অতি বিখ্যাত লেখক ছাড়া কোন লেখককে রয়্যালটি দিতে অভ্যস্ত নয়, চায় ও না দিতে। অতএব, কোন লেখক নিজের টাকায় বই ছাপালে সেই বই হাজার হাজার কপি বিক্রি হলেও রয়্যালটি হিসেবে এক টাকাও প্রকাশকের কাছ থেকে না পাবার সম্ভাবনা আছে এবং সেটাই বেশি। এখন এরকম ঘটনাই ঘটছে বেশি।

এতে দেখা যায়, প্রকাশক আগেও যেমন লাভবান হত, এখন আরও বেশি লাভবান হচ্ছে। লেখকের কোন লাভ হচ্ছেনা, যদি লেখক একমাত্র নিজে তার বই বিক্রি করতে না পারে। নিজের বই নিজে বিক্রি করতে পারলেই লেখক হয়তো লাভের মুখ দেখতে পারেন। এর মানে কি দাঁড়ালো? এর মানে দাঁড়ালো লেখককে বই লিখে টাকার মুখ দেখতে হলে শুধু নিজের টাকায় বই প্রকাশ করলেই হবে না, বিপণন (মার্কেটিং) করে বই বিক্রিও করতে হবে। যেটা আসলে একজন লেখকের জন্য বোঝা। অনেক ক্ষেত্রে মর্যাদা হানিকর ও বটে।

এই অবস্থা কেন দাঁড়াল

বাংলাদেশে প্রকাশনা শিল্প সবসময়ই রুগ্ন ছিল। তবে যতই রুগ্ন থাক, স্বাবলম্বী ছিল। প্রকাশনা সৃজনশীল ব্যবসা হওয়ার দরুন  প্রকাশকরা মেধাবী ও দায়িত্বশীল ছিলেন। ব্যবসায়ে তাদের নৈতিকতার অনুশীলন ছিল। তারা সব লেখকের লেখা ছাপাতেন না। প্রকাশনায় সম্পাদক বিভাগের দায়িত্ব ছিল ভালো লেখক খুঁজে বের করা। ভালো পাণ্ডুলিপি পেলেই একমাত্র তারা লেখা প্রকাশ করতেন। আজকের সকল প্রতিষ্ঠিত ও মেধাবী লেখক এভাবেই উঠে এসেছেন। প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে তারা ঘুরেছেন। অনেক সাধনা ও চেষ্টা করে তারা লেখা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন। লেখকদের জীবনী ঘাটলেই এমন শত শত উদাহরণ চলে আসবে। সম্পাদকের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে লেখা প্রকাশ পেত না। ফলে যাদের লেখা প্রকাশ পেত, পাঠকরা তাদের লেখা মনোযোগ দিয়ে পড়ত। কারও লেখা পাঠকনন্দিত হতো, কারোটা হতো না। প্রকাশকের মাধ্যমে প্রকাশিত বই এভাবেই পাঠকের কাছে মর্যাদাময় ও জনপ্রিয় হয়েছে।  অতীতের এই ব্র্যান্ড ভ্যালু ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আর্থিক ঝুঁকি ও ক্ষতি থেকে মুক্তির জন্য ফায়দা তুলছেন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন। যারা নতুন লেখক, তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে লেখা যেমনই হোক, কোন সম্পাদনা ছাড়াই বই প্রকাশ করে ফেলছেন। অনেকে আবার ধনী লেখক (!) খুঁজে খুঁজে শুধু তাদের অখাদ্য-আবর্জনা প্রকাশ করছেন। এতে আবার উভয়েরই লাভ, লেখক ও (!) খুশি, প্রকাশক ও লালে লাল। কিন্তু প্রকাশকের যে পেশাদারিত্ব, তার ধারে কাছেও এরা নেই। ভালো পাণ্ডুলিপি বেছে সেটা বই আকারে প্রকাশ করা, বিপণনের দায়িত্ব নেয়া, ক্রেতা সৃষ্টি করা, বই বিক্রির পরে লেখককে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর রয়্যালটি দেয়া, এগুলো যে প্রকাশনা ব্যবসায়ের মূল কাজ, সেটা এরা জেনেও না জানার ভান করে, অনেকে আবার এটা নিয়ে বাজে তর্কও করে।

বইয়ের প্রকাশক হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ বলেই প্রকাশক বনে যাচ্ছে অনেকে, অনেকের প্রকাশক বনে যাওয়ার একটাই উদ্দেশ্য নতুন লেখকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বই বের করা। এরা নির্লজ্জের মতো বিক্রির দায়িত্ব নিতেও রীতিমতো চাপ প্রয়োগ করে লেখকের।

এখন শুধু প্রুফ রিডিং ছাড়া এখন আর সম্পাদনা বিভাগের কোন কাজ নেই। কোন কোন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে সম্পাদনা বিভাগ নামে এখন আর কোন বিভাগ নেই। আর মানুষের ক্রয়

ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আর লেখকরা বা যারা লেখক হতে চায় তারা আর গরিব নেই। তারা আর প্রতিযোগিতা ও সম্পাদকের পরীক্ষার সম্মুখীন হতে চায়না। তাই টাকা থাকলেই বই বের করে ফেলে। অনেকে বিক্রী নিয়ে চিন্তাও করেনা। সখের সাহিত্য বা সখ মেটানোর উপায় ছাড়া বই প্রকাশ এইসব নতুন লেখকদের কাছে কিছুনা। অনেকের সারাজীবনের স্বপ্ন থাকে বই প্রকাশ করার। সেই স্বপ্নও টাকা দিয়ে তারা পূরণ করে ফেলে এভাবে।

পাঠক কমে গিয়ে বাজার যেভাবে নষ্ট হচ্ছে

পাঠক সৃষ্টি না হলে শুধু বই প্রকাশই সার, বই বিক্রিও কমে যাবে। প্রতিদিনই দেখা যায় নতুন নতুন অনলাইন/অফলাইন বইয়ের দোকান কিংবা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তৈরি হচ্ছে। এসবের বিজ্ঞাপনে ভরে যায় বই প্রেমীদের হোমপেজ। কিন্তু আসলে এতে লাভ কি হচ্ছে? বাঙালি অনুকরণে ওস্তাদ। কুটিরশিল্পের মত ঘরে ঘরে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বা দোকান দিয়ে লাভ নেই যদি ক্রেতাই না থাকে। আগে ক্রেতা তো তৈরি করতে হবে। এবং সেটাই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং এই প্রযুক্তির যুগে। এটাই করতে চায় না বাংলাদেশের ৯৫ ভাগ প্রকাশক ও বই দোকানি। কইয়ের তেলে কই ভাজার প্রবণতা এদের। এবং এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার বুদ্ধিবৃত্তিক ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যও নেই আমাদের দেশের কয়েকটা হাতে গোনা প্রকাশনা ও বইয়ের দোকান ছাড়া। আধুনিক বিপণন কিংবা সৃজনশীল কার্যক্রম ও ট্রেন্ডিং তৈরির মাধ্যমে পাঠক সৃষ্টির দায়িত্ব যারা নিতে নারাজ, বুঝতে হবে সেসব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও দোকান নীতিগতভাবে ভণ্ড।

এই যে বই প্রকাশ করার খুব সহজ পন্থা হিসেবে নিজের টাকা দিয়ে নিজের বই প্রকাশ করার ব্যাপারটা প্রাধান্য পাচ্ছে এখন, এর ফলাফল কিন্তু ভয়ংকর। একেতো ডিজিটালাইজেশনের যুগে মানুষের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে, তার উপর ভালো বইয়ের অভাবে আগ্রহের ঘাটতি প্রত্যক্ষ ও প্রোক্ষভাবে লোপ পাচ্ছে। এখন যে কেউ সম্পাদকের মধ্যস্থতা ও মতামত ছাড়াই লেখক হয়ে যাওয়ার দরুন লেখার মান কমে যাচ্ছে। ফলে ভালো বইয়ের সংখ্যা আগের চেয়েও কম, ভাল লেখকের সংখ্যাও কম। একজন পাঠক যখন বই কেনেন, তখন সে সময় এবং টাকা বিনিয়োগ করে কাগজের বইটির পিছনে। কিন্তু বইটি কিনে যখন পড়ে দেখে এটি একটি আস্ত আবর্জনা ছাড়া কিছু নয়, তখন সে অন্য যেকোনো কাগজের লেখা বই পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আর যারা নিজের টাকা দিয়ে বই প্রকাশ করতে পারেনা প্রকাশকের মাধ্যমে, তারা অনলাইনে লেখে। প্রকাশকরা লেখকের কাছ থেকে টাকা পেয়ে অভ্যস্ত, তাই তারা ওই মেধাবী লেখকদের বই প্রকাশ করে না। ফলে পাঠক কাগজের বই পড়ুয়া থেকে অনলাইন পড়ুয়ায় রূপান্তরিত হয়। ফলে দেখা যায়, বাজে লেখক ও বাজে লেখায় বইমেলা সয়লাব, কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা কম, ক্রেতারা হয় শুধু পুরানো ও বিখ্যাত লেখকদের বইই কেনেন, নয়তো কেনেন না, ঘোরাঘুরি করে ভিড় বাড়ায়, হয়তো কেউ বাধ্য হয়ে নতুন লেখকদের বই কেনে, আত্মীয় বন্ধু পরিজন হিসেবে মন র¶ার জন্য।

পরিত্রাণ পাবার উপায়

লেখকরা নিজেদের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে একটা ঘোরের মধ্যে থাকে। তাই বই প্রকাশের জন্য বেশি কিছু চিন্তা করেনা। কিন্তু লেখকদেরও সততায় ঘাটতি আছে। এর কারণ, টাকা দিয়ে বই প্রকাশ করা বা করতে সুযোগ দেয়া, নিজেই নিজের বইয়ের বিপণনের গুরু দায়িত্ব পালন করা, সচেতনভাবে কিংবা বাধ্য হয়ে, এক ধরনের ভণ্ডামি। এতে লেখকের সৃষ্টিসত্তা ভঙ্গুর হয়। এই ভণ্ডামি থেকে বের হওয়া সম্ভব। চিন্তা কওে দেখুন, ইচ্ছে থাকলেই বের হওয়া সম্ভব।

ভালো ও নতুন লেখক হলে এই পরিত্রাণ পাবার উপায় আছে।

প্রথমত, চেষ্টা করতে হবে নিজের টাকায় বই বের না করার। ভালো ভালো প্রকাশকদের কাছে যেতে হবে, পাণ্ডুলিপি জমা দিতে হবে। প্রচুর পড়তে হবে, লিখতে হবে প্রতিদিন, অনলাইনে-অফলাইনেও লেখক হিসেবে সরব থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ পত্র-পত্রিকায় লেখক হিসেবে নিজের পরিচিতি দাড় করাতে হবে। ভালো লিখতে পারলে সেটা কঠিন কিছুনা। পরিচিতি পেলে এবং পাণ্ডুলিপি ভালো হলে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাতে পারে বই প্রকাশ করতে।

দ্বিতীয়ত, কেউ আগ্রহ না দেখালে নিজেই প্রেস এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এর আগে প্রুফ রিডিং ও প্রচ্ছদ সম্পন্ন করতে হবে। পাবলিশিং বইয়ের নিবন্ধনও করে নিতে হয় এক্ষেত্রে কপিরাইট অফিস থেকে। নিবন্ধন ফি মাত্র ৫০০-১৫০০ টাকা। নিবন্ধন করতে দরকার লেখকের দুই কপি ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্র এবং এক কপি পাণ্ডুলিপি। প্রেস এর মাধ্যমে নিজেই নির্দিষ্ট সংখ্যক বই ছেপে, বইয়ের দোকানগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে বই বিক্রির জন্য। এতে বিক্রি হওয়া বইয়ের একটি অংশ লেখক পায়। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সাথেও কথা বলা যায় মেলায় বিক্রী ও প্রদর্শনীর ব্যাপারে। তবে সেক্ষেত্রে রয়্যালটির ব্যাপারে সবকিছু পরিষ্কার করে নিতে হবে।

তৃতীয়ত, নিজের ওয়েবসাইট, ব্লগ বা সামাজিক মাধ্যমেও বিক্রির অপশন রাখতে পারেন। তবে লেখক এক্ষেত্রে সুবিধা হলো, লেখক এসব ক্ষেত্রে হার্ড কপি এবং সফট কপি উভয়ই বিক্রি করতে পারবেন চাহিদা অনুযায়ী। লেখক কোন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যস্থতা ছাড়া প্রেসে গিয়ে নিজে বই ছাপালে বিক্রয়ের দায়িত্ব এবং বিক্রয় কৃত প্রাপ্ত অর্থ সম্পূর্ণ লেখকের নিজেরই থাকে। প্রকাশকের মাধ্যমে বই ছাপালেও যদি বিক্রয়ের দায়িত্ব নিজেরাই থাকে, কিন্তু বিক্রয় কৃত অর্থ যদি না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে নিজে নিজে প্রেসে গিয়ে বই প্রকাশ করাই লাভজনক।

শেষত, ইউরোপ আমেরিকা এবং ভারতেও এখন সেলফ পাবলিশিং ব্যাপক জনপ্রিয়। সেলফ পাবলিশিং এর সুবিধা পুস্তক শিল্পে রীতিমতো বিপ্লব এনেছে। এছাড়া বিশ্ববিখ্যাত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন সেলফ পাবলিশিং এর মাধ্যমে লেখকদের সুযোগ দিয়ে প্রতি মাসে কয়েক বিলিয়ন ব্যবসা করছে এবং লেখকরাও রয়্যালটি পাচ্ছে ঠিকভাবে। অ্যামাজনের কিন্ডেল পাবলিশিং এখন ভারতেও জনপ্রিয় হচ্ছে। এবং মজার ব্যাপার হলো, এতে হার্ড কপি ও সফট কপি উভয় ভার্সন বিক্রি করা যায়।

যাহোক, বাংলাদেশে হয়তো আর বছর পাঁচেক এর মধ্যে সেলফ পাবলিশিং জনপ্রিয় হবে। তবে এখন এই ধারণার সাথেই এখনও পরিচিত নয় লেখক সমাজ ভালোভাবে। কিন্তু দিন বদলাবেই। প্রকাশকদের এই অনৈতিক ব্যবসা এবং বইয়ের বাজারের এই ¶য়িষ্ণু অবস্থা চিরদিন থাকবে না। নৈতিক ও ভালো বিকল্পের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL