অলৌকিক – এক

স্পিড ব্রেকারে যখন বাসগুলোর হাঁসের ছানার মত সাবধানী ভঙ্গী
মেয়েটি সুযোগ পেয়ে রাস্তা পার হল,
ভ্রু কোঁচকানো মেয়েটি গুমোট রাগে ফুঁসছে
তার বর্তমান পাণিপ্রার্থীর সীমারেখা অতিক্রম সংক্রান্ত কারণে সে বিরক্ত
তার অভিমানাহত হাত দুখানি অস্থির, গ্রীবা দৃঢ়
দ্রুত পায়ে সে হাঁটুসমান উঁচু আইল্যান্ডে পা রেখেছে কেবল
মাথা তুলে হাঁটতে যেতেই চোখের সমুখে উঠে এল একটি চওড়া বুক
বুকটি পথ আগলে দাঁড়াল তার
যেন বলবে, ‘মাথা রাখো এখানে, এখনি।’

কিন্তু না, চওড়া বুকের মালিক এক সহজ পুরুষ
দু’পা পিছিয়ে যেন কিছুই হয় নি ভঙ্গীতে ঠোঁট চেপে সে হাসছে
তার খোলা মনখানি চোখে রেখে মেয়েটিকে সে অপলক দেখছে,
মেয়েটির ঘোর কাটতে সময় লাগল
খুব বেশি হলে পাঁচ সেকেন্ডের ঘোর
দুজনেই অবাক, নিরব কিন্তু হাস্যোজ্জ্বল
দ্বৈত সঙ্গীতের মত একই উচ্চারণে শুধু- ‘কেমন আছো?’
শোনামাত্র দুজনের সমস্ত নিউরনগুলো যেন উল্লাস করে উঠল শিশুর মত
আড়ি ভেংগে যাবার আনন্দে।

কোথায় চলে গেল মেয়েটির সব বিরক্তি, অভিমান আর অস্থিরতা?
কোথায় চলে গেল সহজ লোকটির পেছনের অবহেলা, ক্ষোভ আর কণ্ঠ বেয়ে ওঠা কষ্টের স্মৃতি!

এভাবেই বুঝি আড়ি ভাঙ্গে বড় হলে
কোটি মানুষের ভীড়ে
সময়ের স্রোতে ভেসে
জীবনের কোথাও কোনো বাঁকে এসে,
কেমন অলৌকিক এ দ্বৈততা
কেমন অলৌকিক এ মৌনতা
কেমন অলৌকিক এ ঘোরহীনতা!

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL