মহেঞ্জোদারো রিভিউ- ২য় ও শেষ পর্বঃ প্রত্যাশা পূরণ হলনা…

আছে সাসপেন্স, আছে প্রযুক্তি কারিশমা যা বলিউড আগে দেখেনি। শেষ দৃশ্যটায় যখন বন্যার জল নৌকাগুলোকে উড়িয়ে দিচ্ছিল, সেটা হলিউডের ২০১২ মুভিটার কথা মনে করিয়ে দেয়।

ও হ্যাঁ, আর বলছিলাম হতাশার কথা। হতাশ এজন্য যে আমার প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। আমি আশা করেছিলাম 10000 BC টাইপের কিছু হবে। কিন্তু আসলে এটা বলিউড, সেটা দর্শককে মনে রাখতেই হবে। এ আর রহমানের উতরে যাওয়া মিউজিকে ভর করে দর্শকের মনে জায়গা রাখা হয়তো যায়, কিন্তু বাস্তবতা ও পারফেকশন ধরে রাখা যায় না। যাত্রা পালার নায়ক নায়িকাদের মত বলিউড যতদিন নায়ক-নায়িকার ঠোটে গান আর শরীরে নাচ অপ্রাসংগীকভাবে প্রদর্শন করে যাবে ততদিন বাস্তব পরিপ্রেক্ষিত ধরে রাখা চলচিত্রে, সম্ভব না বলিউডে। আশুতোষ এর আগেও এ্যমনই করেছেন। পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকরের ‘লগন’ অস্কার দৌড়ে ভারতের হয়ে লড়া ৩য় ছবি যা প্রতিযোগীতা তৈরি করতে পেরেছিল, কিন্তু নায়ক-নায়িকার অনাহূত ও বাস্তবতা বিবর্জিত গান-নাচে অস্কার সম্ভাবনা গুড়িয়ে যায়। এর বিনিময়ে আমরা এ আর রহমানের কিছু কালজয়ী গান পেয়েছিলাম যদিওবা। আমি চলচিত্রে নাচ-গানের বিরোধীতা করছি এটা ভেবে ভুলেও ভুল করবেন না। আমি শুধু বলছি নাচ-গান প্রদর্শন অনেক বেশি বাস্তবসম্বলিত ও প্রাসংগীক হওয়া উচিত। অনেকভাবেই চাইলে প্রদর্শন করা সম্ভব। যাহোক, আশুতোষ হিস্টোরিক্যাল মুভি বানাতে পছন্দ করেন। যেমন যোধা-আকবরের মত দারুন ছবি তিনি করেছেন। শুধু মহেঞ্জোদারো আইডিয়া নিয়ে কাজ করার জন্য এই পরিচালকের একটা পুরস্কার প্রাপ্য হয়ে যায়, কারণ আমাদের এই সাবকন্টিনেন্টে অতীত ইতিহাস নিয়ে কাজ করা ভীষন কঠিন ও চ্যালেঞ্জময় একটি কাজ। সেখানে ২৫০০-৫০০০ বছর আগের কাহিনী। সাবাস আশুতোষ!

অনেকগুলো রিভিউ পড়ে জানলাম, আশুতোষ হিট ছবির তকমা পাবার জন্য এই ছবিটির কোরিওগ্রাফি মানে পোষাক আর ডায়ালগ মানে স্ক্রিপ্ট নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করেছেন যেটা কাম্য নয়। পরিচালক ও কাহিনীকার যে সময়টি দেখিয়েছেন সেই সময়ে মহেঞ্জোদারোর মানুষদের সেলাই করা জামা আর মূল্যবান পাথরের অলংকারএর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা ছিল না। ইতিহাস তাই বলে। কিন্তু ছবিতে নায়িকার গায়ে পরানো হয়েছে হালের ঘাঘড়া বা নাইটি স্টাইলের জামা ও পাথরের অলংকার আর নায়ককে পড়ানো হয়েছে ধুতি পায়জামা, যা অবাস্তব। যাহোক এই উপমহাদেশের দর্শকরা সেসব নিয়ে ভাবিত নয়, তা পরিচালক-কাহিনীকার জানেন এবং সেটারই পূর্ন ফায়দা তারা তুলেছেন। ‘Freedom of Art’ টার্মটির পূর্ন ব্যবহার ও অপব্যবহার করেছেন তারা। আর ডায়ালগের কথা নাইবা বললাম। যেহেতু এটি সম্পূর্ন কনটেন্ট বেসড, তাই ডায়ালগ থাকতে হত অসাধারণ। মানব সভ্যতা নিয়ে যতগুলো চলচিত্র হয়েছে আজ অবধি দেশে বিদেশে, সবগুলোর ধরণ এবং ইতিহাস তাই বলে। অথচ, এ্যত পুওর কোয়ালিটির ডায়ালগ সাধারণ মানের বলিউডি ফিল্মেও হয় কিনা সন্দেহ।

আর হৃত্তিকের অিভনয়! হৃত্তিকের অভিনয় আমার কখনোই ভাল লাগত না। উনি নৃত্তশিল্পী হিসেবেই ভাল মানানসই। উনার অভিনয়কে অভিনয় না বলে অতি অভিনয় বলাই ভাল। উনার বিশেষ বৈশিস্ট্য হল, খুবই উত্তেজনাময় দৃশ্যে ঘর্মাক্ত মুখে মাথা অনবরত কাপিয়ে যান, এ্যমন একটা ভাব দেখান যে রাগে সিংহের মত চেহারা হয়ে যাচ্ছে , আসলে তা নয়, উলটা অদ্ভূত রকমের বিরক্তিকর লাগে দেখতে। বলিউডের অভিনেতারা সাধারণত পেশিময় শরীর আর নৃত্য প্রদর্শন করে অনেকদূর যেতে পারেন, তাই উনিও আজ স্টার। উনার স্টারডম এই চলচিত্রে ভালই দেখানো হয়েছে। নতুন নায়িকাটিকে চিনলাম না, কিন্তু সাবলীল, কিন্তু তার মুখে কোন গুরূত্বপূর্ন ডায়ালগই নাই। মনে হয় তাকে শুধু নাচ-গান আর শহর পরিক্রমা করার অভিনয়ের জন্যই নির্বাচন করা হয়েছে।

যাহোক, সবাই মুভিটি দেখুন। একেবারে কিছু না থাকার চেয়ে কিছু থাকা ভাল। আশুতোষ শুরু করেছেন এধরণের মুভি বানানো। এর পরে হয়তো এ ধরণের আরো ভাল মুভি কেউ বানাবে। শুরু করার জন্য অভিনন্দন!

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL