বিকাশ না হলে এক ছাদের নিচে থাকা ঠিক না

মানুষ আসলে ‘মানুষ’ নষ্ট করতে পারে। সবচেয়ে ভালবাসার মানুষটাও পরষ্পরের কাছে কাছে মূল্যহীন হয়ে যেতে পারে। এই মূল্যহীন হয়ে পড়ার প্রক্রিয়াটা ‘স্লো বার্ন’ এর মত। একদিনে ঘটে না। বছরের পর বছর লাগে কারও কারও ক্ষেত্রে। সুমনের সেই গানের মত – ‘কতটা অপচয়ের পর মানুষ চেনা যায়’।

যে সম্পর্কের মধ্যে থেকে মানুষ হিসেবে পরষ্পরের ‘বিকাশ’ – Growth হয়না, সেই সম্পর্ক এবং মানুষ, বোঝা হয়ে যায় পরষ্পরের কাছে। আমার কাছে মানব সমাজের এই ব্যাপারগুলো বিভীষিকাময় লাগে। কারণ মানুষ হিসেবে আমি চাইনা আমার সাথে যে থাকবে সে এবং তার সত্তা বিকাশহীন হয়ে পড়ুক। নিজের বেলায়ও তাই, বিকশিত হবার পেছনে যে ভালবাসা/সম্পর্ক জ্বালানি হিসেবে কাজ করেনা, তা বয়ে বেড়ানো আসলে অর্থহীন। তাই একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত, যার দক্ষিন এশিয় সংস্করণকে ‘বিয়ে’ বলে, আমার কাছে একদিকে যেমন ইতিবাচক আবার ঠিক ততটাই দায়বদ্ধতাময়, কোন কোন ক্ষেত্রে নেতিবাচকও।

প্রেমে পড়া এবং কাউকে ভালবাসার সাথে বাস্তবিক অর্থে বিয়ের সম্পর্ক কম। বিয়ে মানে পরষ্পরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে এক সাথে থাকা ও সন্তান সন্ততি লালন পালনের চর্চা করা, এর ফলে মানুষ কিছুটা মানবিক গুনাবলিও চর্চা করতে পারে, এর বেশি বিয়ে বিষয়টা অর্থ বহন করে বলে মনে হয়না। তাই Settle marriage করেও দিব্বি সংসার ধর্ম পালন করা সম্ভব । তবে কিছু মানুষ আসলে জিনগত কারণে সম্ভবত আগান্তুককে বিয়ে করতে পারেনা, যাদের মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করেছি বহু আগে।

এই কারণেই মানুষ চেনা, বিষয় হিসেবে ‘মানুষ’ আমার কাছে খুব গুরূত্বপূর্ন। কথায় বলে Attention is the another form of love. কিন্তু অন্যদের observe করা, ভাল্লাগলে Attention দেয়া আমার সহজাত স্বভাব। অনেকের প্রতি সহজেই interested হয়েও গেছি অনেক সময়, কিন্তু এর সাথে আসলে শারীরিক ও মানসিক সম্প্রীক্ততার ইচ্ছের কোন সম্পর্ক ছিল না বা থাকেনা সাধারণত। তাই অনেকেই একে ভুলভাবে দেখেছে, নিজের মত ব্যাখ্যা করতে পেরেছে, ইচ্ছেমত গল্প সাজিয়ে যা তা বলতে পেরেছে। আমার অবশ্য সেসব নিয়ে মাথাব্যাথা ছিল না বা এখনও নেই, যদিও কিছু বাজে Consequence এর সম্মুখীন হতে হয়েছে। জীবনে খারাপ অভিজ্ঞতাতো থাকবেই।

যাইহোক, যা বলছিলাম, আমি ভয় পাই মানুষের বিকাশ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে। বিকাশের পথটা প্রতিবন্ধকতাময়। একটা সম্পর্কে প্রতিদিন নিজেদের ভাংগতে হতে পারে। কিছুটা ভাস্করের শিল্প গড়ার মত। সেই ভাংগনে আনন্দ যেমন থাকে, যন্ত্রনাও থাকবেই, কিন্তু পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখলে, আন্তরিকতা চর্চা করলে, স্পেস দিলে, পরষ্পরের ইতিবাচক দিকগুলো আবিষ্কার করে প্রশংসা করলে, নেতিবাচক দিকগুলোকে না এড়িয়ে সেসবের উপর কাজ করলে যন্ত্রণার তীব্রতাটা কমে যায়।

আমাদের দেশের একসাথে থাকা মানুষগুলোর সম্পর্কে বেনোজল ঢোকে এসবের অভাবে। টিকে থাকে শুধু সম্পর্কের কংকাল, তথাকথিত সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে, অর্থনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে। এদেশে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় তাই সম্পর্ক ভেংগে যাবার হার বেড়েছে, মেয়েদের মধ্যে বিয়ে করার ইচ্ছের অভাবও বাড়ছে। কেননা, সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর মানসিক ও শারীরিক সম্পর্ক চর্চা করার জন্য বেশিরভাগই প্রস্তুত না, অযথা ও অযৌক্তিক প্রত্যাশা করে পরষ্পরের কাছে, অথচ কোন ভাংগা গড়ার মধ্য দিয়ে কেউ যেতে চায়না। বেশিরভাগেরই শ্রদ্ধাবোধ আর বিকাশ সম্পর্কে ধারণা নেই বলেই এমন হচ্ছে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL