শীতে যেভাবে গরম অনুভব করি

ঘুম হইতেই উঠিয়া ঘড়িতে আটটা বাজিতে দেখা একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হইয়াছে। উহা আপিস দিবস হউক না হউক। ত্রস্ত-ব্যস্ত হইয়া দাঁত ক’পাটি মাজিবার উদ্দেশ্যে ব্রাশে পেস্ট লাগাইয়া ট্যাপের নিচে ধরিলে আঙ্গুলগুলি বরফের ন্যায় ঠাণ্ডা জল দ্বারা ভিজিয়া উঠা মাত্র আপাদমস্তক কাঁপিয়া উঠিতে হয়। ইহাকে বলে ভগবানের প্রথম ঝটকা।

ঝটকাখানা খাইয়া আমার সকল স্নায়ু পরবর্তী যুদ্ধের জন্য তৈরি হইয়া যায়। বরফ শীতল জলে হাত, মুখ, বদনখানি ধুইয়া লইয়া এইবার ভাবিতে বসি, স্নান করিব কি করিব না। যদি কোনমতে মিনিট দশেক সময় পাইয়া যাই, তাহাতেই চলিবে।

সেদিন নার্ভ মেম সাহেবা তৃতীয় ঝটকা খাইবার জন্য প্রস্তুত হইয়া পুনরায় স্নানাস্থানে ফিরিয়া আসে। সাবান ঘষিয়া পিঠে প্রথমবার জল ঢালা মাত্র মনে হইতে থাকে ভগবান তাহার মনের সকল রাগ-দুঃখ-অভিমান লইয়া সবেগে চাপড় দিতে এই অধমের পিঠখানিই নির্বাচন করিয়াছেন। কিন্তু সুখের বিষয় দ্বিতীয়বার জল ঢালিবার পরই ধীরে ধীরে গরম অনুভূত হইতে থাকে। যাহা হউক যেহেতু দশমিনিটের বেশি খরচ করা যাইবেনা, অতএব দশ-বারো মগ জল খরচ করিয়াই ক্ষান্ত দিতে হয়।

কিন্তু যেদিন ঐ মিনিট দশেকেরও অভাব হইয়া যায়, সেদিন বড় বিপদে পরিয়া যাই। অফিস হইতে আসিয়া রাজ্যের অলসতা আমাকে রানীতে পরিণত করিতে থাকে। কোনরকম পরিচ্ছন্ন হইয়া আর জল-দর্শন করিতে ইচ্ছা হয়না। ইত্যবসরে যখন সূর্য বাবু দুই থেকে তিনবার উদিত ও অস্তমিত হইয়া যান, তখন আর উপায় থাকেনা। ঈশ্বরের নাম লইয়া রওনা হই স্নান অভিমুখে।

প্রায় কাঁদিতে কাঁদিতে মগের জল মাথায় ঢালিতে প্রস্তুত হই। বিশ সেকেন্ডে প্রায় ১৫-২০ মগ জল গায়ে ঢালিতে ঢালিতে অনুভব করিতে থাকি, আমার চেয়ে চারিপাশ ও জল ঠাণ্ডা। আরও ১০-২০ মগ জল ঢালিয়া অবশেষে ক্ষান্ত হই। ঘরে ফিরিয়া যান্ত্রিক পাখাখানা চালু করিয়া চুল শুকাইতে শুকাইতে পণ করি প্রতিদিন এরূপ গরম অনুভব করিব! কিন্তু হায় কখন যে সূর্য দুইবার উঠিয়া যায় টেরই পাই না।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL