H2O ও আমাদের দেশের সুন্দরী প্রতিযোগিতা

যারা পানির রাসায়নিক সংকেত সুন্দরী না জানায় কোন সমস্যা মনে করছেন না, তাদের জন্য বলছি।

সুন্দরী প্রতিযোগিতা কি, কেন ইত্যাদি ভিন্ন প্রসঙ্গ। পুরো প্রতিযোগিতার মধ্যে অনেক বাণিজ্যিক ব্যাপার আছে। কিন্তু সে বিষয়ে অন্যদিন আলোচনা করা যাবে। তবে এই প্রতিযোগিতায় বিউটি উইথ ব্রেইন ফ্যাক্টর আছে। অতএব, সেখানে কোন দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে হলে শুধু গাধার মত সুন্দরী হলে চলেনা, ঘটে কিছু বুদ্ধিও লাগে।

এখন প্রশ্নের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু পানির রাসায়নিক সংকেত না জানা আসলেই দুঃখজনক। এটা স্কুলের একটা বাচ্চাও বলতে পারে । এ ধরণের প্রশ্ন কেন করা হয়? এসব প্রতিযোগিতায় কিরকম প্রশ্ন করা হয় সেসব জানার জন্য গত কয়েক বছরের ইভেন্টগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন। তাছাড়া প্রতিনিধিত্বপূর্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে বেসিক কমন সেন্স থাকতে হবে। এ ধরণের নলেজ আমাদের কমন সেন্স তৈরি করতে সাহায্য করে স্কুল জীবন থেকেই। তাই আমরা জানি পানি যা ছাড়া জীবন চলে না তা শুধু পানিনা, এর মধ্যেও বেশ কিছু উপাদান থাকতে পারে, তাই পানি খুবই গুরূত্বপূর্ণ। পৃথিবীর অনেক দেশে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে গ্রাজুয়েশন বা মাস্টার্স ছাড়া করাই যায়না। কেন? পলিটিক্স করতে বা মানুষের সেবা করার টিকেট পেতে অযথা নিশ্চয়ই এসব নিয়ম করা হয়না, কিছু নলেজ বা চিন্তা করার ক্ষমতা থাকা দরকার দেশ চালাতে হলে । কেউ যদি ঐ সার্টিফিকেশন থাকা সত্ত্বেও কমন সেন্স বা চিন্তা ও কাজ করার ক্ষমতা অর্জন না করে সেটা ভিন্ন কথা।

গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড (miss world) মানসি চিল্লারের (Manushi Chhillar) উঠে আসা দেখলে অবাক লাগে। ইনি একজন ডাক্তার (Doctor)। মিস ওয়ার্ল্ড হবার আগেই তিনি নিজে নারীর রজঃসলা (ministration) সমস্যা নিয়ে একটি প্রকল্প পরিচালনা করেছেন, যেখানে তিনি গ্রামে আর স্কুলে ঘুরে ঘুরে ৫০০০ মেয়েকে সেবা দিয়েছেন।

মিস ইন্ডিয়া (Miss India)প্রতিযোগিতাটাও দেখেছি। সেখানে করন জোহর (Karan Johar) মানসি চিল্লারকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন সারোগেসি পদ্ধতি ভাল না খারাপ? এখন যে কেউ বলতেই পারে এই প্রতিযোগিতায় সারোগেসি নিয়ে কেন প্রশ্ন করা হবে। কিন্তু এধরণের প্রশ্ন হচ্ছে সুন্দরী নয় শুধু একজন যোগ্য প্রতিনিধি যিনি অনেকের অনুপ্রেরণা হতে পারেন তার কাণ্ডজ্ঞান বা কমন সেন্স বিচারের একটি উপায়।

আমাদের দেশের প্রতিযোগিদের তো কোন বেসিক ই নাই, পানির অপর নাম জীবন, সেই পানি নিয়ে আমরা স্কুল থেকে জানা শুরু করি। এগুলো যারা মনে রাখতে পারেনা বা জানেনা বা জানার দরকার বোধ করেনা, তারা আসলে সুস্থই নয়। সেই তারা যখন কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হবে তখন কি করবে, চিন্তা করেন অবস্থা! এদের অপ্রয়োজনীয় কান্ডজ্ঞান কাইটা কলম লাগাইয়া পানি দেয়া উচিত প্রতিদিন। আর আসলে এসব ছাগলের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কোন দরকারই নেই। তারপরও যাদের জ্বালা ধরতেছে তাদের জন্য একটা লিংক দিলাম : goo.gl/Zgzd3h

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL