বাবার জন্য কখনো…

আজ কী একটা দিন যেন বিশেষ
পত্রিকা জুড়ে কত রঙিন বিজ্ঞাপন,
কত লেখা,
আজকাল সবাই প্রচার স্কুলের ছাত্র
সবকিছু যেন প্রচারের খাদ্য,
ভালবাসা, শ্রদ্ধা, প্রেম,
আর স্মৃতি।

যদিও আজ একবার ও ভাবি নি তোমাকে
ভাবার পাই নি ফুরসত,
পাই না, পাবোও না;
পেতে কি চাই?
চাওয়া কি উচিত??

তোমাকে শেষ ভেবেছিলাম
এইতো সেদিন,
যেদিন কাঠফাটা রৌদ্রের নিচে
একটু ছায়ার জন্য
উদ্ভ্রান্তের মত ছুটেছিলাম।
যখন তোমাকে ভাবতেই
ঈশ্বর আমার জন্য ছুঁড়ে দিয়েছিলেন
এক পশলা রঙিন বৃষ্টি
আদিগন্ত বিস্তৃত আলোকিত ছায়া।

আর মনে পড়েছিল কাল,
জীবনযু্দ্ধের ঝড় ঝাপ্টায়
মগ্ন হওয়ার আগে
অনেক আগে,
যখন তুমি এই ছন্নছাড়া হাড়জ্বালানী আমাকে
অনিচ্ছায় করতে প্রহার,
সেই শুভ ইচ্ছার প্রচণ্ডরূপী শক্তি
রূপ নিল গাম্ভীর্যে
রুদ্ধ ক্ষীণ আশায় ভরা কণ্ঠে,
যখন বল সবসময় মুঠোফোনে
“ভাল থাক”।

যখন জীবনের মেঘ বৃষ্টি মাথায় নিয়েও
অমূল্য রসদ না চাইতেই পৌঁছে দাও
আমার জন্য,
যেন বহু তৃষ্ণা নিয়ে
প্রতীক্ষা করো আমার চাওয়ার।

যদিও তোমার কণ্ঠে
চাপিয়েছি কয়েক টন বোঝা,
যা আমারই কানকে ছাপিয়ে
হৃদয়কে দীর্ণ করে।
সেই বোঝা বওয়া কণ্ঠে
তবু তুমি হাসো
হেসে ডাকো আমাকে, মাগো।
সে ডাক, সে হাসি
আমার চোখে অশ্রুর বান ডাকে।

তাই তোমাকে আর ভাবি না,
ভাবতে চাই না
শুধু ভাবি কবে নামাবো
তোমার কণ্ঠের এই বোঝা!
কবে শুনবো আবার সেই
শূণ্য বোঝা কণ্ঠের গর্জন!
কবে ফিরে পাবো আবার
ছন্নছাড়া দিনগুলি সেই আমার
আর বাবা রুদ্রমূর্তি তোমার?

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL