লোকসঙ্গীত উৎসব ২০১৭ প্রবেশ বিড়ম্বনা

আমি কোথাও যাবো আর সেখানে অন্যরকম কিছু ঘটবেনা, সেটাতো হয়না প্রায়ই। নিজের গাড়লত্ব সামলাতে গিয়ে পুলিশের সাথে ভাব পাতাইতে হইল। বহুত শেয়ানা মনে হচ্ছে নিজেকে এখন, হাহাহা।

ফোক ফেস্টিভালে কিচ্ছুটি নিয়ে যে ঢুকতে দেবেনা তা জানতাম। কিন্তু উত্তেজনা এত বেশি ছিল যে কিচ্ছু মাথায় ছিল না। গিয়ে দেখি গেটে অনেক জটলা। মহিলারা কাকুতি মিনতি করছে রীতিমত পুলিশের কাছে ব্যাগ নিয়ে ঢোকার জন্য। কেউ কেউ উপরমহলে ফোন করছে। অবাক হলাম, সামান্য ব্যাগ নিয়েও কেউ কেউ ক্ষমতা দেখাতে ছাড়েনা। কিন্তু এমন বলদের মত ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম এসব দেখে! এত দূর থেকে গাড়ি বদলে বদলে এসেছি, ফিরে যাবো? তাও তখন আটটা পার। ঠায় দাড়িয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ। কয়েকটি মহিলা-পুরুষ পুলিশ বসে আছে – কেউ দাড়িয়ে চেক করেই যাচ্ছে। একজনের কাছে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় বললাম, ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে চাই না, কিন্তু ব্যাগটা রাখতে চাই। সে ছাপ জানিয়ে দিল, ব্যাগ চাইলে রেখে যেতে পারি, কিন্তু একটু পর পর ডাস্টবিন ভরে গেলে যখন নিয়ে যাওয়া হবে, তখন এটাও নিয়ে যাওয়া হতে পারে। তখন এটার দায় তারা নেবেনা। আমি বললাম, ভাই আমি আপনার কাছে রেখে যাচ্ছি, কে কি নিবে জানিনা। কিন্তু সে প্রতি উত্তরে একই কথা বলে যাচ্ছে। পাশের পুলিশটি আবার খুব খেয়াল করে শুনছে আমাদের কথা। নিজের উপর এবং পরিস্থিতির উপর মেজাজ তখন সপ্তমে, কিছু ভাবতে পারছিনা। আমি তার নেমপ্লেটটা একটু ঠাহর করে দেখতে চাইলাম। কিন্তু সে বলল, নাই। নেমপ্লেটটা পর্যন্ত রাখেনি যাতে দর্শক এর হারানো জিনিসের দায় নিতে হয়। দুঃখের ঠেলায় হেসে ফেললাম। নাম জিজ্ঞেস করায় সে উত্তরই দিল না। তবে পুলিশের নাম এভাবে কেউ জিজ্ঞেস করেনা বলে মনে হল সে খানিকটা অবাক। খালি বলল, ঠিক আছে আপনি চলে যান। চেষ্টা করব দেখে রাখতে। কিন্তু হারিয়ে গেলে চেচামেচি করতে পারবেন না। কারণ, আমরা কারও কিছু রাখছিনা।

আমি নিতান্ত অপরিহার্য টাকা,বাসার চাবি আর ফোন বাদে সবকিছু রেখে গেলাম। সে ব্যাগ চেক করে বলল, অনেক কিছুইতো আছে, হারিয়ে গেলে অনেক লস হবে আপনার, নতুন শালটা নিয়ে যান। নিলাম। কেন যেন একবারও মনে হয়নি আমার, ব্যাগটা হারাবে।

ভেবেছিলাম বের হব দশটায়। হতে হতে বারোটা পার। বের হবার সময় দেখি পুলিশের দল আছে। আমি খুঁজে পাবার আগেই ব্যাগ রাখনেওয়ালা পুলিশ চেঁচিয়ে ডাকল। ব্যাগ এগিয়ে দিয়ে বলল, ঠিকাছে কিনা দেখেন। আমিতো আপ্লূত। তাদের সবাইকে থ্যাংক্স ট্যাংক্স দিয়ে টিয়ে অস্থির। আসলে ভেতরে ভেতরে নিজের উপর রাগের চোটে আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম ব্যাগ ফেরত পাবার। কয়েকজনের সাথে হ্যান্ড শেক করলাম। আর পন করলাম, এই তিনদিন ব্যাগের গুষ্টি কিলাই।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL