ভাষার অর্থনীতি ও আমাদের দায়

যেকোন ভাষার বিস্তার ও চর্চা মূলত নির্ভর করে তার অর্থনীতির উপর। যার অর্থনীতি যত বড় তার বৃদ্ধি, চর্চা ও শৌর্য তত বেশি। বাংলাদেশের ও অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান। অতএব, এ ভাষার ব্যবহার বাড়ছে বৈ কমছে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় খুব আগোছালোভাবে আমরা আগাচ্ছি যা আমাদের ধ্বংসেরই নামান্তর। ইংরেজি ভাষা যত খুশি তত মেশাচ্ছি বাঙলায়, প্রচলিত বাঙলাও ব্যবহার করা ছেড়ে দিচ্ছি অলসতা করে। শিক্ষিতদের স্বাজাত্যবোধহীনতার পাশাপাশি বাংলা একাডেমির দায়ও এখানে কম নয়। ইংরেজি ভাষার দিকে তাকান, অক্সফোর্ড ডিকশনারির ওয়েবসাইটে যান, সামান্য একটি ডিকশনারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কীভাবে একটি ভাষাকে সমৃদ্ধ করছে, নিয়ন্ত্রণ করছে, বোঝা যাবে। আর ওদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা না হয় বাদই দিলাম। প্রতিদিনই নতুন নতু শব্দ যোগ হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে (পারিভাষিক ছাড়াও, তাদের ধার করার মানসিকতা কম)। আমাদের ভাষায় দিনকে দিন শুধু পারিভাষিক শব্দ বেড়ে গিয়ে একসময় দেখা যাবে এগুলোই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে গিয়েছে যা আসলে আমাদের স্বকীয়তা ও আত্মমর্যাদা হানিকরই হবে, এছাড়া আর কিছু না। এক শব্দ ব্যবহারের প্রতি মানূষের ঝোক বেশি, কিন্তু এই ৫০ বছরে বাংলা ভাষায় নতুন প্রচলিত শব্দ যুক্ত হয়েছে??? খুব কম। সেদিন শুনলাম বাংলা একাডেমী নাকি “অটিজম” এর একটি বাংলা শব্দ বের করেছে – “বিশেষ বুদ্ধিসম্পন্ন”, কিন্তু এটা এক শব্দের হলে ভাল হত। এখন লেখায় কথায় অটিস্টিক এর বাংলা কয়বার “বিশেষ বুদ্ধিসম্পন্ন” ব্যবহার সম্ভব? এসব বিষয়ে সৃষ্টিশীলতা বা সিদ্ধান্ত হতে হয় খুব বাস্তবসম্মত। বাংলা একাডেমি মনে করে মূল দায়িত্বটা সাহিত্যিকদের, আসলেই কি তাই? মোটেও না, দায়িত্বটা আসলে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে এবং নতুন শব্দ তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত ভাবনা ভাবার অনুরোধ করছি।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL