যে কারণে ‘ডুব’ দেখে ভাল লেগেছে

“মানুষ মারা যায় কখন জানিস? যখন এই পৃথিবীর কাছে তার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় অথবা তার কাছে পৃথিবীর…মানুষ মারা যায় তখনই যখন তার প্রিয়জনের সাথে তার যোগাযোগহীনতা তৈরি হয়।”

আইফ্লিক্স-এ ডুব দেখলাম। সত্য বলতে কি, ভাল লেগেছে। বেশ খানিকটা ডুবে গেছি। এই ছবিটা আসলে হলে গিয়ে দেখার ছবি না। ঘরে একলা বসে টেনে টেনে দেখার ছবি। ধীর গতির। ফ্রেমে ধারণকৃত প্রতিটি বৃক্ষ শাখার নাড়াচাড়াও খেয়াল করে দেখার মত ছবি। হয়তো বিশ্ববিখ্যাত ও সমালোচক নন্দিত ছবির মত অত মাহাত্ম নেই। কিন্তু ছবিটা আসলে একজন শিল্পী মানুষের সম্পর্কের গল্প বলেছে। গল্পের Protagonist জাভেদ সমাজের চোখে বিতর্কিত কিন্তু একটি কৃত্তিমতাবর্জীত জীবন কাটিয়েছেন।

একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক Space এবং জীবনীশক্তি দরকার। প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করেনা। সম্পর্কে জীবনী শক্তির শূন্যতা তৈরি হওয়া মাত্র সমাজ সংসারের অপেক্ষা করেনি শিল্পী সত্তা। তাই চলে সমাজ ও পরিবারের সাথে অন্তহীন টানাপড়েন, যার শেষ হয় মৃত্যুর ভেতর দিয়ে। এসবই হয়তো প্রকৃতির অংশ। ঠিক সাগরের মত বৈচিত্র্যময় কিন্তু চিরন্তন ও স্থির।

গল্প হুমায়ূন আহমেদ এর জীবন এর অনুপ্রেরণায় বানানো। এটা অস্বীকার করার মত ব্যাপার কেন মাথায় ঢুকছেনা। হয়তো শাওন বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে বলে। হুমায়ূন আহমেদের মত দারুণ খাটি ও প্রাণবন্ত সফল একজন মানুষ যিনি একটা বৈচিত্র্যময় জীবন কাটিয়ে গেছেন, তার উপর একটা না, নূন্যতম Half Dozen চলচিত্র হওয়া দরকার। ফারুকী তবু তাকে কিছুটা হলেও বোঝার চেষ্টা করেছেন বা বোঝাতে চেয়েছেন। কিন্তু সেটা সরাসরি বলার মত সততা থাকাটা খুব দরকার, যতই ঝড় উঠুক।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL