আমলাতান্ত্রিক ঘেরাটোপে দেশের ডিজিটালাইজেশন

আজ তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে জীবনে প্রথমবারের মত একটি অনলাইন পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়েছিলাম। পরীক্ষাস্থল বিসিসি ভবন, খুবই পরিকল্পিত এবং মানসম্পন্ন স্থাপত্যশৈলীসম্বলিত একটি সুদৃশ্য ভবন। এটা যে আমাদের দেশের একটি সরকারী অফিস বোঝার কোন উপায় নেই। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতই সেখানে কড়া নিয়ম, কার্ড পান্স করে ঢুকতে হয়, কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী। ভেতরে ঢুকতেই দেখলাম ঢাউস ও সুদৃশ্য নোটিসবোর্ডের দুই প্রান্তে “Officer of the Month” শিরোনাম ও ব্যাক্তির ছবি সম্বলিত আর্টিকেল। পরিবেশ দেখে আমি রীতিমত আপ্লুত হলাম। মনে ভাবতে লাগলাম, দেশের অবস্থা আসলেই পরিবর্তন হয়েছে। উল্লেখ্য বিশ্বব্যাংকের মোটা অংকের ফান্ড এ চালিত হচ্ছে এমন প্রকল্পের বদৌলতে দেশের বেশ কিছু মন্ত্রনালয়ের চেহারা পরিবর্তন হয়েছে। সেটা আপাতদৃষ্টে ভালই হয়েছে। যাহোক সে আলোচনা আরেকদিন করা যাবে। তো পড়ি কি মরি করে শেষ সময়ে জনা প্রতি ল্যাব, বিশাল ইলেক্ট্রিক হোয়াইট বোর্ড, প্রজেক্টর ও এসি সম্বলিত পূর্নাঙ্গ ডিজিটাল হল রুমে ঢুকলাম। শিক্ষক ও নির্দেশকগণ (ইন্সট্রাক্টর) ছিলেন খুবই সহায়ক। যাহোক, ঢুকেই নিজের ডেস্কে বসে দেখলাম অনলাইন এক্সাম এর জন্য লগইন পেজ খোলা আছে। সেখানে লগইন করলেই পরীক্ষার সময় শুরু হবে। মোট ১০০ টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন থাকবে। সময় ১ ঘন্টা। ঠিক আটটায় লগইন করতে বলা হল, প্যাঁচটা শুরু হল তখন থেকেই। লগইন আর হয় না। হয় না হয় না আর হয় ই না। শেষমেশ আধা ঘন্টা অপেক্ষা করানোর পরে বলা হল, তাদের সার্ভারে গন্ডগোল দেখা দিয়েছে, সেটা চেক করা হচ্ছে, ( তার মানে পরিক্ষার্থীরা হলে আসার আগে সার্ভার চেক করা হয় নি ) আপাতত ৬০ মার্ক্সের পরীক্ষা নেয়া হবে, তবে ম্যানুয়ালী। মানে খাতা কলমে। বেশ ভাল কথা, প্রশ্ন ততক্ষণাত প্রিন্ট করে দেয়া হল। দ্বিতীয়বারের মত ধাক্কা খেলাম। প্রশ্ন প্রিন্ট করা হয়েছে, ম্যাথ সব গুলো অর্ধেক উঠে আছে। একটা ম্যাথ ও করা গেল না। ইংলিশ প্রশ্নগুলোর লাইন ছোট ছোট ছিল বলে রক্ষা। আমাদের সেই প্রশ্নগুলোরই উত্তর করতে হবে। আর সবকিছু যেমন তেমন করে রেখে দিতে হবে। ১৭ টা প্রশ্ন সঠিক ছিল বলে সেগুলো উত্তর করা গেল। সব প্রশ্ন যে প্রিন্ট হয় নি, শিক্ষকগণ সেটাও খেয়াল করছেন না। সব মিলিয়ে দায়িত্বে অবহেলা আর উদাসীনতায় বিরক্তি আর হতাশায় তারছেঁড়া অবস্থা। আর এর মাঝে আবার ভিডিও ম্যান এসে ভিডিও করছে (ফান্ডদাতাদের দেখানোর জন্য)। পরিশেষে এই হল অবস্থা, ফান্ড আছে, তাই ফুটানি আছে। কিন্তু কাজই নাই। একটা প্রতিষ্ঠানের সার্ভার মেইন্টেইনই করতে পারা যাচ্ছে না, ১৬ কোটি মানুষের দেশের মিনিমাম ৮ কোটি ভোটারের তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে বুঝলাম না। শুনেছি, ঐ ভবনেই জাতীয় তথ্য সংরক্ষনাগার এর সার্ভার রাখা হবে। কপালে খারাপী আছে এদেশের মানুষের।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL