ধর্ম ও সংস্কৃতির যে পার্থক্য মানতে হবে

ধর্ম ও সংস্কৃতি একে অন্যের মামাতো-খালাতো ভাই-বোন এবং পরিপূরক। কিন্তু পার্থক্য ও সুস্পষ্ট। অতএব, ধর্মীয় কোন রীতি দিয়ে সাংস্কৃতিক কোন কর্মকাণ্ড বা উৎসব খারিজ করা হবে চরম ভুল এবং এর ফলাফল কখনো ভাল হয় না। কারণ সংস্কৃতির কোন রীতি বা উৎসব যদি শুভ বোধ এবং শুভ ফলাফল বহন করে, তাকে খারিজ করার কোন মানে নেই। আর যে ধর্ম যত বেশি খারিজ তত্ত্ব অনুসরণ করবে সেই ধর্ম ততবেশি অসারে পরিণত হবে। ধর্মের ব্যাখ্যা যখন সম্মিলনের বদলে বিভেদকে উতসাহিত করবে, ভালবাসার বদলে দ্বেষ, সহিষ্ণুতার বদলে ঘৃণা, রক্তের বদলে রক্ত তখন সে ব্যাখ্যা সচেতন ও দ্বিধাহীনভাবে ত্যাগ করতে হবে। এটাই সুশিক্ষা। পহেলা বৈশাখকে যারা ধর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে খারিজ করেন, তাদের মনে রাখা উচিত এই দিনে আমরা আমাদের জাতিসত্ত্বার সমগ্র মানুষ একাত্মতা অনুভব করি, একই রীতিনীতি অনুসরণের মাধ্যমে উৎযাপন করি নিজেদের শিকড়ের অস্তিত্বকে। শুভ কামনা ও শুভেচ্ছা বিনিময় করি সব জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে। মানবতাবোধ ও ভালবাসার চর্চা করি। এটা খারাপ কিছু হতে পারে না। অতএব, ধর্মের সাথে এর কোন বিরোধ থাকতে পারে না। মোটকথা ধর্ম ছাড়াও সৃষ্টিকর্তা এমন কিছু বিষয় আমাদের উপহার দিয়েছেন যা শিল্পের মতই আমাদের মানব জীবনকে রাঙিয়ে তোলে। জীবনকে বর্ণময় ও ছন্দময় করে তোলে। ধর্ম ও সংস্কৃতির মাঝে এই পার্থক্য আমাদের মেনে নিতে হবে এবং জীবনের এই বৈচিত্র্যকে ভালবাসতে হবে নানা আঙ্গিকে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL