ছফা – ১

ছফা পড়া শুরু করেছিলাম। এখনো শেষ করতে পারছিনা। আমার সমস্যা হল: কোনকিছু শুরু করে শেষ করতে ভুলে যাই বা পারিনা। যাইহোক, হাজার হাজার ভাবনা আর প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে যে ঠিকভাবে, তিনিই মূলত লেখক। কাফকা পড়া শুরু করার পর যা মনে হয়েছিল, উনাকে পড়তে শুরু করার পরও তাই মনে হচ্ছে: জীবনের দু’অবস্থা- ১. কাফকা ও ছফা পড়ার আগের অবস্থা ও ২. এদের পড়ার পরের অবস্থা।

ছফার মতে, এদেশের সংখ্যাগুরুরা মূলত ধর্মীয়ভাবেই অশিক্ষিত গাড়ল। যেহেতু তাদের অতীত স্মৃতি ভয়ানক, মানে এরা ৯৯ ভাগই নিম্ন বর্নের নির্যাতীত হিন্দু/বৌদ্ধ, তাই অবচেতনে অন্ধভাবে এরা সেই স্মৃতি কাটাতে প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ করতে থাকে প্রজন্মান্তরে। না বুঝে কোরআন মুখস্ত এর অংশ। অথচ কে না জানে মাতৃভাষায় যেকোন কিছু আয়ত্ত খুব সহজ। ভাষা ধর্মের চেয়ে শক্তিশালী। ইরানীরা এটা বুঝতে পেরেছিল। তাই তারা ইসলামকে ভাষা দিয়ে ফিল্টারিং করে জাতীয়তাবাদ ও স্বাজাত্যবোধ মিশিয়ে গ্রহণ করেছিল। আরবীকে তারা অন্ধভাবে গ্রহণ করে নি ভারতবর্ষের মুসলিমদের মত। তাদের উপলব্ধি ও ইসলাম এর সৌন্দর্য ও ধার তাই বেশি, আজও। সেখানে এখনও বিকাশ থেমে যায় নি।

কিন্তু এখানকার ধর্মান্তরিতদের কোন স্বাজাত্যবোধ নেই। এরা so called convinced গাড়ল। তাই এখানে ইসলামের সংখ্যাগত বিকাশ ছাড়া মানগত বিকাশ নেই। মাথা না খাটিয়ে এরা অনুকরণ ও অনুসরণে অভ্যস্ত।

এই অনুকরণ এর ধারাবাহিকতার একটি অংশ হল উর্দু ভাষার প্রতি প্রেম। সেটা আবার কিছুটা প্যারাডক্সিক্যাল। মুঘলদের দাপ্তরিক ভাষা ছিল ফারসী। তাই কাজে কম্যে বাঙালি সেটা শিখে নেয় বা মানিয়ে নেয়। আবার যারা উর্দুভাষী তাদের সাথে মিশেও যায়। হিন্দুদের সাথে অবচেতনে সাংস্কৃতিক হুমকি অনুভব করা এই ধর্মান্তরিত সম্প্রদায় আবার উর্দুভাষীদের দ্বারা যখন আক্রান্ত হয় (৫২,৭১), তখন কিন্তু মেনে নিতে পারে নি। কারন, কতক্ষণ আর মানিয়ে নেয়া যায়? এভাবে তারা সমস্যা কাটায় বটে (স্বাধীকার অর্জন), কিন্তু এই অবচেতন অভ্যস্তরা আবার যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই ফিরে যেতে থাকে। চলতে থাকে অন্ধ অনুকরণ। তাদের সাংস্কৃতিক বিকাশ বা মুক্তি আর ঘটে না। না ইরানীদের মত, না সম্পূর্ণ নতুন ও পূর্ণ জাতিসত্ত্বা রূপে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL