বিভাগ: রিভিউ

বাঙালির বড় ছেলে তত্ত্ব

ভেবেছিলাম লিখব না। কিন্তু যখন দেখলাম ট্রল হচ্ছে, তখন আর না লিখে পারছি না। পরিবারের বড় ছেলে বা বড় সন্তান না আমি, কিন্তু আমার বাবা-দাদা সবাই পরিবারের বড় সন্তান ছিলেন। তাই পরিবারের বড় ছেলের সন্তান হয়ে বুঝি মানুষের অনুভূতি কেমন কাজ করছে।

গেরিলা- খাটি মুক্তিযুদ্ধের ছবি

গেরিলাকে ভোট দিটে ক্লিক করুন এখানে

কাল “গেরিলা” দেখলাম বলাকায়।জীবনের প্রথম হলে গিয়ে চলচিত্র দেখা। তাই ভাবলাম এমন একটি চলচিত্র দেখবো যা আজীবন স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

‘প্রাক্তন’ দাম্পত্য ও আধুনিক নারী-পুরুষের টানাপোড়েন ও দ্বন্দ্বের ছবি

‘প্রাক্তন’ দেখলাম। সুন্দর সুস্থ বিনোদনের ভাবনা জাগানীয়া চলচিত্র। গানগুলো সত্যিই বার বার শোনার মত। মাঝে মাঝে আমি কেবলই ভাবি আমরা এভাবে ভাল ও মন্দ চলচিত্রের জন্য, বিনোদনের জন্য ভারতীয় চলচিত্রের উপর কেন ও কিভাবে নীর্ভরশীল হয়ে পরছি। আগ্রাসী সংস্কৃতি বলে আসলে কিছু নেই। Survival of the fittest. আমাদের মেধাবী নির্মাতা ও রুচিশীল প্রযোজককে প্রনোদনা দিতে হবে। এবং সরকারের কৌশল বদলাতে হবে, তৎপর হতে হবে। এছাড়া মুক্তি অসম্ভব। আরেকটা আয়নাবাজী কবে আসবে, জনগন সে পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকবেনা।
আমার প্রিয় গানগুলোঃ

আয়নাবাজীঃ মধ্যবিত্তকে হলে টানার বাংলা ছবি

অনেকদিন পরে একটি হাউজফুল বাংলা ছবি দেখা হল। ফেসবুকে কিছুদিন ধরে আমার হোম পেজে বিতর্কটা ঘুরে ফিরে আসছিল। কিন্তু আবার উচ্ছাসের জোয়ার ও ছিল এবং সেটার পাল্লাই ভারী হচ্ছে দিন দিন। একসময় দেখলাম ফেসবুকের হোমপেজের দর্শক দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে, একভাগ যারা আয়নাবাজী দেখেছে, আরেক ভাগ হল যারা দেখেনি। আজ আমি নিজেও প্রথমোক্ত দলের হয়ে গেলাম। এবং দেখে যেটা বুঝলাম, আসলে বিতর্ক কেন ছবিটা নিয়ে সেটাই বোঝা হল না। অমিতাভ রেজা খুব ভাল বিজ্ঞাপন চিত্র নির্মাণ করেন। এটি উনার প্রথম চলচিত্র। তাই দর্শকের একটা প্রত্যাশা ও কৌতুহল ছিল এমনিই। এবং হলে যাবার পরে সেটা প্রত্যাশা ও ভাললাগা ছাপিয়ে মুগ্ধতায়  পর্যবশিত হল।

মহেঞ্জোদারো রিভিউ- ২য় ও শেষ পর্বঃ প্রত্যাশা পূরণ হলনা…

আছে সাসপেন্স, আছে প্রযুক্তি কারিশমা যা বলিউড আগে দেখেনি। শেষ দৃশ্যটায় যখন বন্যার জল নৌকাগুলোকে উড়িয়ে দিচ্ছিল, সেটা হলিউডের ২০১২ মুভিটার কথা মনে করিয়ে দেয়।

প্রথম পর্বঃ মহেঞ্জোদারো চলচিত্র একটি অসাধারণ আইডিয়া

মহেঞ্জোদারো দেখলাম। লিখতে বসার পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে। নামটা শোনার সাথে সাথে শিক্ষিত মানুষ মাত্রেই বুঝতে পারবে চলচিত্রটা কী নির্ভর। তাই এই মুভিটা দেখার জন্য কিছুটা শিক্ষীত হতেই হবে। প্রেক্ষাপট ৪,৫০০ বছর আগেকার। ইন্ডিয়ান পরিচালক ও কাহিনীকাররা জানেন, জনগন ইতিহাস জানতে চলচিত্র দেখে না, দেখে নেহাত বিনোদণের জন্য সেটা যেমনই হোক। সব শ্রেনীর দর্শক-শ্রোতাদের কথা মাথায় রেখেই বেশিরভাগ পরিচালক ছবি বানায়। প্রায় ৫০০০ হাজার বছর আগে মানুষ কী পোশাক পরত, কেমন ছিল তাদের জীবনযাত্রা, তাদের সমাজ ও জীবন ভাবনা তথা প্রেম-ন্যয়-অন্যায় বোধ কেমন ছিল, এই সবকিছুর কৌতুহল মেটাবার জন্য ছবিটি দেখার আহবাণ পরিচালকের। তীব্র কৌতুহলী হয়ে দেখতে বসেছিলাম তাই ছবিটি, কিন্তু মাঝপথেই হতাশ হয়ে গেলাম।

“কালবেলা” উপন্যাসের চলচিত্র রূপ

বাংলা সাহিত্যে সমরেশের “কালবেলা” একটা মাস্টারপিস। কিন্তু চলচিত্রে তা হল না।আসলে বাংলা ভাষায় অনন্য সাহিত্য সৃষ্টি হলেও তার যখন কেঊ চলচিত্র রূপ দান করেন এবং করছেন, তখন তার আর সেই অনন্যতা বজায় থাকে না।

মনের মানুষঃ লালনের জীবন ও আত্মানুসন্ধানের গল্প

অনেকদিন আগে থেকেই ভাবছি “মনের মানুষ নিয়ে । চলচিত্রের সমালোচনা করার সাহস বা মেধা যাই বলি না কেন,তা আমার নেই। আমি শুধু একজন সাধারণ দর্শক হিসেবে আমার মতামত প্রকাশ করতে পারি। আর কার কেমন লাগল জানি না, আমার কিন্তু ভীষণই ভাল লেগেছে। গানগুলো তো অসাধারন। যদিও লালনের মনের মানুষের দর্শন অনেক কঠিন, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ও বোধহয় এর চেয়ে সহজভাবে বলা হয়েছে। কিংবা প্লেটোর “নিজেকে জান” নীতি ও সোজা মনে হয়েছে। ব্যাখ্যাটা বোধহয় আরও সোজা হতে পারত।

ময়ূর সিংহাসন: মুঘলদের সাথে বাংলা যোগের দারুণ পাঠ

“ময়ূর সিংহাসন” নামে এবারের বইমেলায় প্রকাশ পাওয়া এক ঐতিহাসিক উপন্যাস পড়লাম। বইটি নিয়ে বিস্তারিত লিখবো অন্য সময়। তবে এখন একটু বলি। শাহীনা আক্তার নাম্নী একজন সুলেখিকার অসাধারণ সৃষ্টি। পড়ে যতটুকু পারি বোঝার চেয়ে জানলামই বেশি। ষোল শতক থেকে মুঘল সাম্রাজ্যের ক্ষয়িষ্ণু কাল শুরু হয়। সিংহাসন আরোহণ এবং ভাইদের হত্যার মাঝে শুরু হয় আওরঙ্গজেবের চরিত্রের বিচরণ। বাংলা-ঊড়িষ্যা সুবাদার আওরঙ্গজেবের বড় ভাই শাহ সুজা দিল্লীর মসনদের জন্য ব্যাকুল কিন্তু সামর্থ্যহীন। মদ্যপ ও আমোদপ্রিয় এ বেচারা হেরে আর পালাতে পালাতে আশ্রয় নিয়েছিলেন আরাকানে। সেখানে থাকতে স্থানীয় গুটিকয় মুসলিম এর পাল্লায় পড়ে আরাকানী রাজার সন্দেহের খাতায় নাম লেখান। কারণ এরা সম্রাটকে নিয়ে আরাকান রাজ্য দখলের স্বপ্নে বিভোর ছিল। পরবাসী সুবাদার শাহ সুজা আরাকান রাজের রোষানলে পড়েন ও নিখোজ হন। আর তার পুত্র কন্যা ও স্ত্রী রাজার হাতে বন্দী ও নিহত হন। আর একটা বিষয় খুব সূক্ষ্মভাবে এসেছে উপন্যাসে, সম্রাট আওরঙ্গজেবের আগের সম্রাটগণ বেশ ধর্মীয়ভাবে উদার ছিলেন। কিন্তু ইনি ছিলেন বেশ কড়া ধাঁচের সুন্নী মুসলিম। যার ফলশ্রুতিতে বড় ভাই দারার বিরুদ্ধে মুসলিম হয়েও বিধর্মী ধর্মানুরুক্তির দোহাই দিয়ে অভিযোগ আনেন এবং তার শিরশ্ছেদ করেন। তার সময়েই শুরু হয় অমুসলিমদের জোর করে ধর্মান্তকরণ, যদিও জোর করার আসলে প্রয়োজন খুব ছিল না, কারণ নিম্নবর্গীয়রা এমনিও এসেছে দারিদ্র্য ও ইসলামের সাম্যের আকর্ষণে। তবু এ সময় থেকে ধর্মীয় নির্যাতন বাড়তে থাকল, ইমাম হাকীকতদের ফালাফালি ও লাফালাফিও বেড়ে চলল। এবং ঠিক তার আড়াইশ বছরের মাথায় হিন্দুদের ইংরেজ বেনিয়াদের নীরবে গ্রহণ করার যে প্রবণতা ও আগ্রহ, তার মূল কারণ ও ছিল মুঘল রাজকর্মচারীদের এই অকাট মূর্খতাময় আচরণ। যা হোক, পড়ে দেখুন ভাল লাগবে। সবিস্তারে আরেকদিন এ নিয়ে বলব।

পিকের কথা

Pk movie, pk, sharmaluna blog

সবাই পিকে নিয়ে লিখছে এবং বলছে। বলতে বা লিখতেই হবে। কারণ, সেটা পিকে টিমের যোগ্যতা। যাহোক, দেখা শেষ করলাম। খারাপ লাগার মত আসলে কিছু নেই। তাদেরই খারাপ লাগার কথা যারা ধর্ম নিয়ে হীনম্মন্যতা কিংবা চুলকানিতে ভোগে। তবে-

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL