বিভাগ: রিভিউ

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পড়েও এমন?

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পড়ার পর কোন রাজনৈতিক Activist কিভাবে মারামারি/ ধর্ষণ/ চাঁদাবাজি/ বাখোয়াজি/ দালালী/ অবৈধ কাজ করে? হয় সে লোক দেখানোর জন্য পড়েছে, নয়তো এটা পড়ে আসলে মাথায় কিছুই ঢোকেনায়।

‘রাং দে বাসান্তি’র রঙ

আজ একটা খবরে দেখলাম নেপালের সেই ইউ এস বাংলার বিমান দূর্ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট বের হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমান চালক হতাশ, বিসন্ন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। অতিরিক্ত মানসিক চাপ নিতে না পেরে তাড়াহুরায় বিমান দূর্ঘটনা ঘটে। পুরো দোষ বিমান চালকের। এই রিপোর্ট দেখে মনে হল, এটা রাং দে বাসন্তি’র অজয় সিং রাঠোর কেস নয়তো! সস্তা জ্বালানি আমদানি করে সেসব বিমান কোম্পানিতে সাপ্লাই করে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য আর এক একটা দূর্ঘটনা ঘটার পর লোক দেখানো তদন্ত। এদেশে এটা অস্বাভাবিক কিছু না।

মুক্তি -পৃথিবীখ্যাত যুদ্ধজয়ী ৩০ মিনিটের অ্যাখ্যান

আজ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন একাত্তরের জননী রমা চৌধুরী। রমা চৌধুরীর জীবনটা একটা আস্ত সিনেমা হতে পারে। এই বীর মহিলার সংগ্রাম মুখর জীবন নিয়ে কেউ কোনদিন লেখেনি, স্বাধীনতার ৪০ বছর কেটে যাবার পরেও। রেজা ঘটক নামের একজন ব্লগার ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ২০১৩ সালে তাঁকে নিয়ে লেখেন প্রথম। এরপর আলোড়ন সৃষ্টি হয়। রমা চৌধুরীর মত লাখো নারীর যন্ত্রণাময় গল্পের বিনিময়ে আসলে আজকের এই বাংলাদেশ। এত সংগ্রাম, এত ত্যাগ অথচ এই মহীয়সী বিনয়ী নারী ছিলেন অন্তরালে, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সম্মানহীন থেকে গেছেন জীবনের সিংহ ভাগ সময়। এর কারণ যতটা না তিনি, তাঁর চেয়ে বেশি বোধহয় আমরাই।

আয়েশাঃ স্বাধীনতা উত্তর সময়ের অজানা অধ্যায়ের একটি গল্প

স ময় ১৯৭৭। বঙ্গবন্ধু-চার নেতা-তাহের-খালেদ মোশারফ খালেদ মোশারফ হত্যার পরে রাজত্ব চলছে মেজর জিয়ার। বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ায় জাসদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছিল। কিন্তু কর্নেল তাহের এর অভ্যুত্থানে আবার যখন পরিস্থিতি কুয়াশাচ্ছন্ন, মেজর জিয়া সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন। জিয়ার সময়ে জাসদই তাঁর সরকারের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল, যেহেতু আওয়ামীলীগ তখন আন্ডারগ্রাউন্ডে। জাসদের কিছু অতি উৎসাহী বিপ্লবী একটি জাপানী বিমান ছিনতাই করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়তে চেয়েছিল এবং মুখ্যত তাদের লক্ষ্য ছিল সরকারকে বিপ্লবের মেসেজ দেয়া। কিন্তু সে চেষ্টায় তারা ব্যার্থ হয়। তখন জিয়া সরকার গণহারে সংশ্লিষ্ট সৈনিকদের, তারা জাসদ সমর্থন করুক আর না করুক, মার্শাল ল এর আওতায় ফাঁসি দিয়ে দেয় বা গুলি করে। এবং সবচেয়ে মর্মান্তিক হল, এসকল অপরাধী কিংবা নিরপরাধী সৈনিকদের কোন ট্রেসই পরবর্তীতে পাওয়া যায়না। তাদের লাশ কোথায় দাফন করা হয়েছে সেটাও পরিবারগুলোকে জানানো হয়না। এই ট্রাজেডি একটি সদ্য স্বাধীন দেশের জন্য অনেক হৃদয়বিদারক ছিল। কিন্তু এসব নিয়ে এতকাল কোন চলচিত্র বা নাটক কিংবা গল্প-উপন্যাস-কবিতা লেখা হয়নি। একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন এই ৪০ বছরে জমা হয়েছে – কেন?

‘জোছনা ও জননীর গল্প’- যুদ্ধের দিন যাপনের কাব্য

“হঠাৎ মনে হল আমাদের মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। পৃথিবী ওলট-পালট হয়ে গেছে। সারাক্ষণ কানে ঝিঁ ঝিঁ পোকার মত শব্দ হচ্ছে। আনিস সাবেত (হুমায়ূন আহমেদের বন্ধু) বাড়ির সামনের মাঠে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়লেন। তিনি শব্দ করে কাঁদছেন।গড়াগড়ি করছেন। আমি তাকে টেনে তুললাম। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, চল রাস্তায় চল। একটু আগেই তিনি কাঁদছিলেন, এখন আবার তিনি হাসছেন। আমরা রাস্তায় নেমে পড়লাম এবং ফাকা রাস্তায় কোনরকম কারণ ছাড়া দৌড়াতে শুরু করলাম। আনিস ভাই এক হাত শক্ত করে আমকে ধরে আছে, আমরা দৌড়চ্ছি।

শচীন! শচীন!! শচীন!!!শচীন!!!!

বায়োপিক মানে সবার প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। গল্প নতুন না হলেও গল্পটা কিভাবে বলা হল সেটা নিয়ে দর্শকের থাকে অন্তহীন কৌতুহল। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শচীন নিজে, প্রেক্ষাগৃহে যাবার জন্য সম্ভবত এই একটি কারণই যথেষ্ঠ ছিল। কিন্তু ছবি শুরু হবার পর দর্শকের অবাক হবার পালা শুরু। একসময় সেটা মন্ত্রমুগ্ধতায় পর্যবশিত হল। এবং এক পর্যায়ে গিয়ে বোঝা গেল পরিচালক কেন শচীনকে নিয়ে পুরোদস্তুর প্রচলিত ধারার চলচিত্রের বাইরের কিছু বানিয়েছেন। তাই এটাকে বায়োপিক না বলে বলা হচ্ছে ডকুড্রামাশচীনের জীবন এত বর্ণীল, এত ক্লিপিংস আছে যা জোড়া লাগিয়ে লাগিয়েই একটা পাক্কা গল্প সাজানো গেছে। গল্প বলেছেন শচীন নিজের কণ্ঠেই, সেই সাথে বলেছেন তার স্বজনরাও। এর চেয়ে ভাল গল্প অভিনয় করে, স্ক্রিপ্ট সাজিয়ে হয়তো হত না। কোনভাবেই অভিনয় করে হয়তো বাস্তবের এই আবেগগুলো ধরা যেত না ক্যামেরায়। কোটি কোটি মানুষের এত আনন্দাশ্রু কিংবা ক্ষোভের আগুন, এত ভালবাসা, শচীনের ডেভোশন, ডেডিকেশনপ্রেরণার জায়গাগুলো না দেখালে অজানাই থেকে যেত এত কিছু, অন্ধকারে থেকে যেত ক্রিকেটীয় ইতিহাসের স্বর্ণময় উৎকর্ষ

উড়িষ্যার জনপ্রিয়তম গান রঙ্গবতী (Coke Studio)

অনেকদিন গান নিয়ে লিখিনা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খালি Folk গান শুনছি। নানান দেশের। এর মধ্যে বাংলা বাদে মনে ধরেছে ওরিষা বা প্রাচীণ উড়িষ্যা ভাষার গান। ভাষাটা এত্ত মিষ্টি লাগল, হয়তো বাংলার সাথে কিছুটা মিল আছে বলে। তবে মৈথিলি বা ব্রজবুলি’র সাথেও মিল আছে।

যে কারণে ‘ডুব’ দেখে ভাল লেগেছে

“মানুষ মারা যায় কখন জানিস? যখন এই পৃথিবীর কাছে তার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় অথবা তার কাছে পৃথিবীর…মানুষ মারা যায় তখনই যখন তার প্রিয়জনের সাথে তার যোগাযোগহীনতা তৈরি হয়।”

ছফা – ২

বি.দ্র: এখানে শুধু ছফার বক্তব্য বলা হয়েছে, এই অধমের না। যতটুকু ছফাকে বুঝেছি, সেটুকুই বলেছি। সূত্রঃ ‘বাঙালী মুসলমানের মন’।

ছফা – ১

ছফা পড়া শুরু করেছিলাম। এখনো শেষ করতে পারছিনা। আমার সমস্যা হল: কোনকিছু শুরু করে শেষ করতে ভুলে যাই বা পারিনা। যাইহোক, হাজার হাজার ভাবনা আর প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে যে ঠিকভাবে, তিনিই মূলত লেখক। কাফকা পড়া শুরু করার পর যা মনে হয়েছিল, উনাকে পড়তে শুরু করার পরও তাই মনে হচ্ছে: জীবনের দু’অবস্থা- ১. কাফকা ও ছফা পড়ার আগের অবস্থা ও ২. এদের পড়ার পরের অবস্থা।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL