ক্রিকেট যাত্রাঃ গ্যালারি থেকে অন্তর্জাল

একজন ভারত সমর্থক ফেসবুকের একটি ছবিতে মন্তব্য করলেন,

“As usual India won the match….Bangladesh won Hearts Livers and Kidneys!! One amazing fact : Mushi has 3 centuries, and all 3 times Bangladesh lost. Great record sir… Pack up!! :)”

ব্যাস। তার এই মন্তব্যের পরেই শুরু হয়ে গেল ঝড়। উত্তরে যে ঝাঁকে ঝাঁকে মন্তব্য শুরু হল তাকে মন্তব্য না বলে গালি বলাই ভাল।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ফেসবুক পেজ থেকে বিরাট কোহলী মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত নামে একজন বাংলাদেশী জুনিয়র খেলোয়াড়কে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন, এরকম একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছিল। এমন একটি ছবিতে এই ভারতীয় সমর্থকের হালকা রসাত্মক ও কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য ভালভাবে নিতে পারেনি ভগ্নহৃদয় বাংলাদেশী সমর্থকরা। ফলাফল উভয়পক্ষের গালি ও তালির ঝড়।  

ঘটনাটির অবতারণা করা হল একারণে যে, সামাজিক মাধ্যম এখন সবার জন্য সর্বতোভাবে উন্মুক্ত। সেন্সর করার কোন উপায় নেই একমাত্র ‘ডিলিট’ বাটন চাপা ছাড়া কিংবা ব্লক বা রিপোর্ট করা ছাড়া। তাই ছবি, মন্তব্য এবং গালি সবই অপ্রাসঙ্গিক হলেও এসব থামানোর উপায় নেই। ভক্ত-সমর্থকরা তাদের রাগ,দুঃখ, হাসি, কান্না সবকিছু প্রকাশ করেন সামাজিক মাধ্যমগুলোর পছন্দের পেজে। দর্শকদের খুব ছোট্ট একটি অংশ গ্যালারিতে খেলা দেখে। বাকিরা দেখে ছোট পর্দায়, শোনে রেডিওতে, পড়ে পত্রিকায়। তবে প্রতিক্রিয়া দেখায় সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। এখন খেলা দেখার পরে বা খেলার সময় সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ঢুকে খেলা নিয়ে ভালোলাগা-খারাপ লাগা প্রকাশ করাও প্রাত্যহিক বিনোদনের অংশ হয়ে গিয়েছে। এবং এটা ছাড়া খেলা দেখাটা ঠিক যেন পূর্ণতা পায় না। তাই ভক্ত-সমর্থকদের কথা মাথায় রেখে সব সংগঠন এবং দলই সরব সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। নিজেদের কার্যক্রম ও খেলার আপডেট উপস্থাপনার মাধ্যমে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উদ্দীপ্ত রাখা ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতা বজায় রাখাই মূলত লক্ষ্য। সেই সাথে খেলোয়াড়রাও নিজ নিজ প্রোফাইল সাজাতে এবং আপডেট এর বিষয়ে সচেতন। প্রিয় খেলোয়াড়কে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম নিদেনপক্ষে ইউটিউবে দেখতে, খোজ পেতে, জানতে কে না চায়!

সৌজন্যেঃ ব্বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর

ভক্ত-সমর্থকদের আগ্রহ এবং অ্যাক্টিভিটি বোঝা যায় ক্রিকেট টিম ও সংগঠনগুলোর সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলোর লাইক বা ফলোয়ার সংখ্যা দেখে (এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত)।

দলের নাম (অফিসিয়াল) ফেসবুক

(লাইক)

টুইটার

(ফলোয়ার)

ইনস্টাগ্রাম

(ফলোয়ার)

ইউটিউব

(সাবস্ক্রাইবার)

বাংলাদেশ ক্রিকেটঃ দি টাইগার্স ১,০৮,৬১,৮৪৪ ১.২৪ মিলিয়ন ২,৩৮০০০ পেজ নেই
ইণ্ডিয়ান ক্রিকেট টিম ২,৭৫,৬৫৪০১ ৩.৬৯ মিলিয়ন ২.৫ মিলিয়ন পেজ নেই
পাকিস্তান ক্রিকেট টিম ৬৭,৮২,৮৬৯ ৪,৯১০০০ ১,৭০০০০ পেজ নেই
শ্রীলংকা ক্রিকেট ২৭,৩৪,৮০৭ ৪,৫৬০০০ ২২,৪০০ ৩০,২৬০
ইংল্যান্ড ক্রিকেট ৩৫,৬৩,৬৩২ ৩,৪৭০০০ ৩,২২০০০ ৯৩,৫৫৬
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট টিম ৩৩,৭১,৮৮৩ ১,৩৮০০০ ৫,০৭,০০০ ১,৬২,৯৬৭
ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা ৪০,৭২,৫৮৪ ১৩,৫০০ ১,৯৬,০০০ ২,২১৬
ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড ৫,২৬,২৫৮ ১,১০০০০ ১০,৩০০ ৮,৮৫৩
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ৩৮,৯৩৫ ১,৩৩০০০ ৬২১ পেজ নেই
আইসিসি-ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল ১,৭৯,৫৫,৭৯৭ ৪.৬৯ মিলিয়ন ২.৯ মিলিয়ন ১,৮৩,৮১১

 

ঠিক একইভাবে প্রায় সব খেলোয়াড়দেরই আছে সোশ্যাল মিডিয়া পেজ। তারকা খেলোয়াড়দের থাকে লাখো ভক্ত সমর্থক। এসব ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম পেজে সমর্থকরা কখনো ভাসান প্রশংসা ও ভালবাসায়, কখনো জানান ক্ষোভ, কখনো জানান অভিমত। খেলোয়াড়ও কখনো কখনো দেন উত্তর। নিয়মিত পোস্ট করেন বক্তব্য, ছবি ও ভিডিও। সোশ্যাল মিডিয়াগুলো সংবাদ সরবরাহের ও একটি মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। তাই সাংবাদিকদের নজরও থাকে সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলোতে অবিরত আপডেট পেতে ও দিতে।  তারকা খেলোয়াড়দের সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলোর ভক্ত বা ফলোয়ারদের সংখ্যা প্রচুর (এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত)।

খেলোয়ারের নাম (অফিসিয়াল) ফেসবুক

(লাইক)

টুইটার

(ফলোয়ার)

ইনস্টাগ্রাম

(ফলোয়ার)

মুসফিকুর রহিম ৮৫,৮৩,৫৫৭ ৪,৯৯০০০ ৪,৯৭০০০
মাশরাফি বিন মর্তুজা ৮১,১৫,৭৬৩ নেই নেই
সাকিব আল হাসান ৯৭,৯০০৮৮ ৯,৭৯০০০ ৫,৩৯০০০
ভিরাট কোহলি ৩৪,০৩৭,০০৬ ১৪ মিলিয়ন ১০.৭ মিলিয়ন
শহীদ আফ্রিদি অফিসিয়াল ৬,৪০১,৮১৫ ৪২,২০০ ৫,০৭০০০
এবি ডি ভিলিয়ার্স

 

২৯,৫৪,৮৭৬ নেই ২.৯ মিলিয়ন
ক্রিস গেইল ৭৮,৭০,৯২৫ ৩.৩৬ মিলিয়ন ১.৪ মিলিয়ন

 

সংবাদ মাধ্যমগুলো তাদের খবরগুলো পোস্ট করছে তাদের ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম পেজগুলোতে। সেখানেও খেলার বিশ্লেষণ ও খবর জানতে আছড়ে পরছে ভক্ত সমার্থকরা। প্রথম আলো’র একটি খবর ছিল হায়দ্রাবাদে মাহামুদুল্লার আউট নিয়ে। ‘আউটটার কথা অনেক দিনই মনে পড়বে’ শিরোনামে। খবরটি পত্রিকাটির ফেসবুক পেজে পোস্ট হয়েছে ১৪ তারিখ। ভক্ত-সমার্থকদের সমালোচনার খাড়া নেমে আসে মাহামুদুল্লাহ’র উপরে। হাজার হাজার লাইক, শত শত কমেন্ট ও শেয়ার হয় মুহূর্তেই।

হায়দ্রাবাদের তির্যক খবর আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটে যাওয়া ঝড়ের মাঝে একটুখানি উদ্দীপনা ছিল ‘অশ্বিনকে মুশফিকের অটোগ্রাফ’ সংবাদটি। সেখানেও সমালোচনা করতে ছাড়েনই অনেক ভক্ত। তবে কেউ কেউ ইতিবাচক কথাও বলেছেন। নীলয় নীল অরিয়ন নামের একজন লিখেছেন,

“সবকিছুতে এ্যত্ত ভেজাল কেন খোঁজেন……..অটোগ্রাফ নিছে ২ টা কারণে ১.নিজের ইতিহাস গড়া ২. বন্ধুত্ব পূর্ণ ভাবে ম্যাচ খেলছে তার জন্য……এতে দোষের কি দেখছেন……কথায় আছে যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা…..”

২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাবার পর এই প্রথমবার প্রায় ১৭ বছর পর টেস্ট খেলল বাংলাদেশ ও ভারত। একারণে ম্যাচটি স্মরণীয় এবং ঐতিহাসিকও বটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ইস্যুটি নিয়ে সকলের আগ্রহ ছিল তাই আরও বেশি। টুইটারে জনপ্রিয় হ্যাশট্যাগ ছিল #BANvINDসেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটঃ দি টাইগার্স পেজ থেকেই বেশি পোস্ট হয়েছে। তার অনেক পোস্টেই দেখা গিয়েছে এই হ্যাশ ট্যাগ। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি জনপ্রিয়। তিনি হ্যাশট্যাগের চেয়ে ইনস্টাগ্রামের পোস্ট শেয়ার করেন বেশি টুইটারে। এছাড়া টুইটারে #Family হ্যাসট্যাগেও তিনি প্রায়ই পোস্ট করেন। তিনি ইনস্টাগ্রামে বেশি সরব। ব্যক্তিগত জীবনের পারিবারিক ছবিগুলো তিনি পোস্ট করেন ইনস্টাগ্রামে।  টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এ জনপ্রিয়তম খেলোয়াড় বিরাট কোহলি। তার টুইটার পেজে পছন্দের হ্যাশ ট্যাগ হল #InsideIsEverythingবিভিন্ন খেলোয়াড়দের শুধু ছবি দেখতে ইনস্টাগ্রামের বাংলাদেশ ক্রিকেট: দি টাইগার্স পেজে ভীর করেন লাখো ভক্ত সমর্থক প্রতিদিন।

চলছে আইসিসি নারী বিশ্বকাপ কোয়ালিফাইং টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা শুরু করেছে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়া যথেষ্ট সরব এই টুর্নামেন্ট এর বিষয়ে। প্রতিনিয়ত আপডেট আসছে ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে। আইসিসি সহ সব ক্রিকেট সংগঠন ও পত্রিকাগুলোর সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলোও খবর দিয়ে চলেছে।

ইনস্টাগ্রাম এ সংক্রান্ত হ্যাশ ট্যাগ হল #WWC17টুইটারেও একই হ্যাশট্যাগে চলছে তাদের আপডেট বার্তা। প্রতিটি সামাজিক মাধ্যমেই অভিনন্দন বার্তায় ভাসছে বাংলার নারী ক্রিকেট দল। নিঃসন্দেহে, আগ্রহী দর্শক ও সমর্থক ক্রমশই বাড়ছে নারী ক্রিকেট টিমের জন্য। একজন ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন,

“বিভিন্ন দেশের নারী টিমের সাথে আমাদের টাইগার দলের ক্রিকেট ম্যাচ খেলার আয়োজন করার জন্য আমাদের বোর্ড কর্মকর্তাদেরকে অনুরোধ জানাচ্ছি।তবে মনে হয় অনেক খেলায় তখন ও হারবে আর প্রত্যেক খেলার পর বলবে এই খেলা থেকে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি যা পরবর্তী খেলায় কাজে লাগবে”

 

খেলার আপডেট ও ভিডিও দেখতে ইউটিউবেও ভক্ত সমর্থকরা সরব। ক্রিকেটের নতুন ও পুরানো ম্যাচের হাইলাইটস, বিশ্লেষণ, বিভিন্ন চ্যানেলগুলোর রিপোর্ট দেখতেই মূলত আগ্রহী দর্শকরা। ইউটিউবে ক্রিকেট সংক্রান্ত জনপ্রিয়তম চ্যানেল হল ‘ক্রিকেট টপিক’ যার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১১, ৫২,৮৩৬। ২০১২ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের শেষ ওভারটির ভিডিও দেখেছে ৫৭,৮২,৬৬৭ দর্শক।

প্রতিটি খেলায় হার জিত নিয়ে আলোচনা হয় এখন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সোশ্যাল মিডিয়া এখন তথ্য ও বিনোদন পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ও উন্মাদনা বুঝতে হলে এবং উপভোগ করতে হলে চোখ রাখতে হবে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বাংলাদেশের ক্রিকেট শুধু যে বাংলাদেশেই জনপ্রিয় হচ্ছে তা নয়, দেশের বাইরেও এদেশের ছেলে মেয়েদের ক্রিকেট প্রতিভা প্রশংসা পাচ্ছে, পৃথিবীব্যাপী মানুষের ভালবাসা পাচ্ছে। এবং এর পিছনে সোশ্যাল মিডিয়ার অবদান কোন অংশে কম নয়।

ইন্দ্রজিত কালিতা নামে একজন ভারতীয় দর্শক হায়দ্রাবাদ টেস্টের পরে ফেসবুক পেজে মন্তব্য করেছেন,

“The amazing Bangladesh Cricket Team, they lost the match but win every Indian’s Heart because of their talent of all hole youth team, unbelievable talent of this youth team of Bangladesh actually showed their talent earlier when England played against them, Bangladesh win the test match when England were in good position but Bangladesh win the the match in one session, that’s the reason India don’t easy win but The Champ don’t give up and win handsomely after very hard work in pitch like this batting wicket”

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL