লিখেছেন: শর্মা লুনা

উডি আ্যলেনের ‘ব্লু জেসমিন’ আ্যখ্যান

ব্লাক কমেডি ধারার ব্লু জেসমিন দেখলাম। আবাসন কোম্পানির এক মানি ম্যানেজারের স্ত্রীর উপর নির্মীত ছবি। কী অদ্ভূত না? তাও আবার সত্য ঘটনা অবলম্বনে। ঐ মানি ম্যানেজারের ইউ এস পেনালকোডে ২৫০ বছর জেল হয়েছিল প্রতারণার দায়ে। পরে জেলে বসেই সে আত্মহত্যা করে।

কবির সিং নামাঃ সমস্যা কাহিনী ও চরিত্রে না, পরিচালনায়

মেজাজ এতো খারাপ যে বিস্তারিত লেখা অসম্ভব।

যখন কোন ছবিতে নারী পুরুষের একতরফা মারামারির দৃশ্য বিশেষত পুরুষ মহিলার গায়ে হাত তুলছে এরকম কিছু দেখায়, এবং তাতে দর্শককে তালি দেয়ার জন্য কোন পরিচালক প্ররোচিত করে এবং তাতে সাফল্য পায়, তখন মনে হয়, এই চ বর্গীয় টাইপের ছবি যে বানিয়েছে এবং লিড রোলে যে বা যারা অভিনয় করেছে এরাও আসলে চ বর্গীয়।

সবাই সেপিওসেক্সুয়াল হলে পুরুষতান্ত্রীক, ধর্ষক ও নির্যাতক কারা?

মাঝে মাঝে কিছু বিষয় দেখে হাসি পায়, মেজাজও খারাপ লাগে। এই যেমন ধরুণ, এখন ‘সেপিওসেক্সুয়ালিটি’ নিয়ে খুব কথাবার্তা চলছে। অনেকেই নিজেদের ‘সেপিওসেক্সুয়াল’ হিসেবে চিহ্নিত করছে ফেসবুকে। ব্যাপারটা এমন যে, বিষয়টি সম্পর্কে তারা কেবলই জানল এবং সেই জানা অনুযায়ী তারা এক্কেবারে নিশ্চিত যে তারা অবশ্যই সেপিও। হাস্যকর। বিষয়টি সম্পর্কে দু চার লাইন শুনে, গভীরভাবে না বুঝেই কিন্তু তারা এটা করল। যেন এটা করে সেপিও হয়ে তারা জাতে উঠল।

কবিতার অক্সিজেন মাস্ক

কখনও মুখোশ দেখে দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেলে
সংকীর্ণ এঁদো গলির মত মন দেখতে পেলে খুব কাছ থেকে
দমে গিয়ে নিশ্চুপ হয়ে যাই কিছুক্ষণ,
কবিতার অক্সিজেন মাস্ক পরে বেচে উঠতে উঠতে
মনে হয়, এর চেয়ে ভাল ছিল বকের জীবন।

পূজার মত প্রেম

পূজার মত অনবদ্য প্রেম
এখন আর কে দেবে কাকে!
এ ভীষণ ওভারস্মার্ট যুগে জনপ্রিয় কোন
সংজ্ঞায়িত হাস্যকর দামে কে বিকোতে চায়!
এ সীসার ভারী দেয়ালের শহরে 
উদাত্ত বন্ধু মনও আহত ভীষণ।

অনুকবিতা

১।

তোমাতে আমাতে দূরত্ব মহাকালের,
এত কদর্য সহনীয় হল
বিশ্ব চরাচরে বৃষ্টি এলো বলে,
স্বাগতম, হে সুন্দর!

ভাল থেকো – ২

কেবলই যাচ্ছি ক্রমে দূরে আরও দূরে
জীবন যেখানে নিয়ে যায় জোর করে,
ভাল থেকো তুমি গত জন্মের প্রিয়
জল-বর্ষার কোমলতাটুকু নিও।

প্রকাশকরা যেভাবে লেখকদের শোষণ করছে

বাংলাদেশে প্রকাশনা ব্যবসায়ের ধরণ বদলে গেছে। আগে লেখকদের কাছ থেকে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করে সেটা প্রকাশ করে বিক্রি করা হতো, রয়্যালটি দেয়া হতো, অনিয়মিতভাবে হলেও। তখনকার লেখকরা রয়্যালটি পাক কিংবা না পাক, বিক্রি নিয়ে চিন্তা করতে হতো না। সেটা নিতান্তই প্রকাশকের কাজ ছিল। ফলে কারও বই বেশি বিক্রি হল নাকি কম বিক্রি হলো সেটা নিয়ে লেখকের কোন মাথা ব্যথা থাকত না, না থাকাই স্বাভাবিক।

থ্রি ইডিয়টস মা কি কাহানী

অরিত্রী হত্যা নিয়ে এখন মানুষ ভাবছে। এর আগে চৈতি নামেও ভিকারুন্নেসার একটি কিশোরী শিক্ষকদের অসদাচরণে আঘাত পেয়ে আত্মহত্যা করেছিল। নৈতিকতা ও সহমর্মীতাহীনতার দ্বন্দ্বে পরে এভাবে হাজার হাজার প্রাণ ঝরে যায় কিংবা বিপথে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈতিকতা ও পার্থিব জ্ঞান দানের অসুস্থ প্রতিযোগিতার পরাকাষ্ঠায় পরে মানবিকতা হারানোর এই সময়ে একটা ছবিকে প্রাসঙ্গিক মনে করছি। ছবির নাম In Which Annie Gives It Those Ones । এই ছবিটা থ্রি ইডিয়ট টাইপের। তবে এর কাহিনী বেশ শক্তিশালী। একে আসলে “থ্রি ইডিয়ট কি মা কি কাহানী” বলা চলে।

ইন্দিরা গান্ধী’র নন্দিত ও নিন্দিত জীবনের সেরা দশ বাঁক

আমি ব্যক্তিপূজায় বিশ্বাস করিনা। শ্রদ্ধা করতে ভয় পাই আজকাল, করিনা বললেই চলে। কারণ, অনেক শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির কর্মকাণ্ড আমাকে চোখের সামনে পাহাড় ধ্বসের অনুভূতি দিয়েছে। কিন্তু কাউকে কাউকে শ্রদ্ধা করতে বাধ্য হই, মানুষ হিসেবে। যেকজন মানুষের জন্মের কারণে পৃথিবী অনেক সুন্দর এখনও, তার মধ্যে ইন্দিরা গান্ধী আছেন বলে মনে করি। ছোট বেলা থেকেই উনাকে দেখে আমার এক অদ্ভুত অনুভূতি হয়। উনাকে ভালবাসার প্রথম কারণ হল, উনি আমার মায়ের মত দেখতে। তাই তাঁকে টিভি স্ক্রিন বা পত্রিকার পাতা যেখানেই দেখতাম, সঙ্গে সঙ্গে মা’র দিকে তাকাতাম।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL