ফুটবলে কালো ছায়া: গুলিতে নিহত ফুটবলার অ্যামিলকার হেনরিকোয়েজ

ছেলেটির ডাকনাম ছিল মিকি। হাস্যোজ্জ্বল ছেলেটি দলের সিনিয়র খেলোয়াড় হয়েও স্বভাবে ছিল দারুণ চটপটে। মাঝমাঠে অবিশ্রান্ত খেলতে পারতো। পানামার জাতীয় দলে তার জায়গা ছিল বেশ শক্ত। ৩৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় স্বভাবে ছটফটে হলেও যে মুহূর্তে অভিজ্ঞতার ব্যবহার প্রয়োজন দলে, ভুল করতেন না এক চুল। বলছি অ্যামিলকার হেনরিকোয়েজ এর কথা। গত মাসেই খেলেছেন আমেরিকার বিপক্ষে পানামার হয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে । যদিও মাত্র শেষ দশ মিনিট। টানটান উত্তেজনাময় সে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। কিন্তু আর কোনোদিন পানামার হয়ে ফুটবল মাঠে নামবেন না অ্যামিলকার হেনরিকোয়েজ। এই নামটি এখন কফিনের উপর লেখা হয়েছে। এ মাসটি ফুটবলের জন্য কাল মাস হয়ে থাকবে।

যা ঘটেছিল সেদিন
মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছিল ১৫ই এপ্রিল শনিবার। পানামার কোলন প্রদেশের নুয়েভো কোলন এ নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় এক সন্ত্রাসীর গুলিতে আহত হন অ্যামিলকার হেনরিকোয়েজ। একটি লাল রংয়ের নিশান গাড়িতে করে কয়েকজন সন্ত্রাসী তার বাড়ির সামনে আসে এবং একজন গুলি করে। গুলি করেই পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় দুজন পথচারীও আহত হন। পরে সাবানিতাসের হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। জীবনাবসান ঘটে পানামার অন্যতম উজ্জ্বল এক জাতীয় বীরের।

শোকে স্তব্ধ পানামা ও আন্তর্জাতিক ফুটবল জগত
পানামার ফুটবলার অ্যামলিকার মৃত্যুতে টুইটারে শোক প্রকাশ করেছে ঋওঋঅ। লিখেছে, দুঃখজনক ঘটনা। ৩৩ বছর বয়সী পানামার জাতীয় দলের খেলোয়াড় অ্যামিলকার হেনরিকোয়েজ মৃত্যু বরণ করেছেন।  জনপ্রিয় এ ফুটবলার এর অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুতে পুরো পানামা প্রবেশ করল শোকের দুনিয়ায়। পানামার ফুটবল ফেডারেশন (ঋঊচঅঋটঞ) টুইটারে লিখেছে,
‘আমরা হেনরিকেজের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। মিকি, ঈশ্বর তোমার আত্মাকে শান্তি দিক।’

হেনরিকোয়েজ এর বর্তমান ও ছেলেবেলার ক্লাব আরবি ইউনিডো এক শোকবার্তায় জানিয়েছে, ‘আমাদের আমিলকারের মৃত্যুতে আমরা দুঃখিত। মাঠে হৃদয় দিয়ে খেলত সে।’ পানামার প্রেসিডেন্ট হুয়ান কার্লোস ভ্যারেলা হেনরিকেজের মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ তিনি টুইটারে জানিয়েছেন,  ‘আমিলকার হেনরিকেজের হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দায়ী ব্যক্তিদের ধরার জন্য কোলন শহরকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে নিরাপত্তা বাহিনী।’

অ্যামিলকার হেনরিকোয়েজ এর দিনগুলো
পানামার জাতীয় দলের পোশাক গায়ে তুলেছেন সবমিলিয়ে ৭৫ বার। জাতীয় দলে অভিষিক্ত হন ২০০৫ সালে। দুর্দান্ত খেলতেন আক্রমণ ভাগে মিডফিল্ডার হিসেবে। শুরু করেছিলেন ২০০৩ সালে পানামার অ্যাারাবি ইউনিডো ক্লাব এর সাথে চুক্তি দিয়ে। সম্প্রতি আবার ফিরেছিলেন প্রথম জীবনের এই ক্লাবে। পানামা জাতীয় দলের হয়ে খেলে দক্ষতার সাক্ষর রেখেছেন ২৩ টি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে যার মধ্যে ২০০৬ সালের জার্মানির বিশ্বকাপ এবং ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ অনর্ভূক্ত। এ বছরই ঈঙঘঈঅঈঅঋ চ্যাম্পিয়ন লীগের কোয়ার্টার ফাইনালে হারান ডালাস এফসিকে। স্বপ্ন ছিল পানামার জাতীয় দলের হয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলার। রাশিয়ার বিশ্বকাপে পানামার হয়ে স্বপ্নের ম্যাচগুলো খেলার জন্য ঘাম ঝরাচ্ছিলেন অনুশীলন মাঠে।

এই ঘটনাই প্রথম নয় পানামায়
অ্যামিলকার হেনরিকোয়েজ এর এই ঘটনা পানামার মত দেশে নতুন নয়। ২০১১ সালেই ঘটে পরপর দুটি ঘটনা। এরিক লুনা নামের এক গোলরক্ষক খুন হন। এবং তিনিও তাঁর বাসার সামনেই খুন হন। আবদুল চিয়ারি নামের এক ফুটবলার ও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান অনুশীলনে যাওয়ার পথে। হাভিয়ের দে লা রোসা নামের আরেক ফুটবলারকে স্টেডিয়ামের বাইরে গুলি করা হয়েছিল ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই। কিন্তু কেন খেলোয়াড়দের এই অকাল এবং অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু? বিষয়টি নিয়ে বেশ চাপে আছে প্রশাসন ও প্রেসিডেন্ট হুয়ান কার্লোস ভ্যারেলা।

বিশ্বব্যাপী চলমান অস্থিরতা থেকে ফুটবল জগত ও মুক্ত নয়। উত্তর আমেরিকার এ দেশটিতে ফুটবল নান্দনিক বিনোদন এবং ভালবাসার উৎস। আর সেই ফুটবলেরই জনপ্রিয় খেলোয়াড়দের উপর আঘাত শুধু পানামার জন্য নয় সমগ্র পৃথিবীর জন্যই দুঃসংবাদ। যদি এই খেলোয়াড়দের খুনের বিচার হয় সুষ্ঠুভাবে একমাত্র তবেই শুভ আলোর দেখা পাবে ফুটবল। তাই অপেক্ষা এখন সত্য উন্মোচনের।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Follow

Get the latest posts delivered to your mailbox:

Free SSL